তৃতীয় মাকসাদ: রাবীর ত্রুটির কারণে প্রত্যাখ্যাত
اَلْمَقْصَدُ الثَّالِثُ: اَلْمَرْدُوْدُ بِسَبَبِ طَعْنٍ فِي الرَّاوِي
রাবীর ত্রুটি বলতে কী বোঝায়?
اَلْمُرَادُ بِالطَّعْنِ فِي الرَّاوِيরাবীর ত্রুটি (طَعْن ত’ন) বলতে বোঝায়: রাবীকে মুখে জারহ (সমালোচনা) করা এবং তাঁর আদালত (ন্যায়পরায়ণতা) ও দীনদারির দিক থেকে, অথবা তাঁর দবত (সংরক্ষণ ক্ষমতা) ও স্মৃতিশক্তির দিক থেকে ত্রুটি চিহ্নিত করা।
রাবীর ত্রুটির কারণসমূহ
أَسْبَابُ الطَّعْنِ فِي الرَّاوِيরাবীর ত্রুটির কারণ দশটি; পাঁচটি আদালত সংক্রান্ত এবং পাঁচটি দবত (সংরক্ষণ ক্ষমতা) সংক্রান্ত।
- ১. মিথ্যা বলা (اَلْكَذِب)
- ২. মিথ্যার অভিযোগ (التُّهْمَةُ بِالْكَذِبِ)
- ৩. ফিসক (পাপাচার) (اَلْفِسْق)
- ৪. বিদআত (اَلْبِدْعَة)
- ৫. জাহালাহ (অপরিচিতি) (اَلْجَهَالَة)
- ১. মারাত্মক ভুল (فُحْشُ الْغَلَطِ)
- ২. স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سُوْءُ الْحِفْظِ)
- ৩. গাফলত (অমনোযোগিতা) (اَلْغَفْلَة)
- ৪. অধিক ওয়াহম (ভ্রান্তি) (كَثْرَةُ الْأَوْهَامِ)
- ৫. সিকাহগণের বিরোধিতা (مُخَالَفَةُ الثِّقَاتِ)
এবার এই প্রতিটি কারণে উদ্ভূত মারদূদ হাদীসের প্রকারভেদ পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে, সবচেয়ে তীব্র ত্রুটি অর্থাৎ মিথ্যা থেকে শুরু করে।
মাওদূ’ (বানোয়াট)
اَلْمَوْضُوْعُত্রুটির কারণ: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর মিথ্যা আরোপ
সংজ্ঞা
تَعْرِيْفُهُ(ক) শাব্দিক অর্থ: مَوْضُوْع মাওদূ’ শব্দটি ইসমে মাফঊল (কর্মবাচক বিশেষ্য), وَضَعَ الشَّيْءَ (কোনো কিছু নামিয়ে রাখা, নিচে ফেলা) থেকে উদ্ভূত। মর্যাদা নিম্নে পতিত হওয়ার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।
(খ) পারিভাষিক অর্থ: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আরোপিত মিথ্যা, বানোয়াট, রচিত কথা।[১০০]
মর্যাদা
رُتْبَتُهُএটি দঈফ হাদীসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম প্রকার। কিছু উলামা একে স্বতন্ত্র বিভাগ মনে করেন এবং দঈফ হাদীসের প্রকারভেদের মধ্যে গণ্য করেন না।
বর্ণনার হুকুম
حُكْمُ رِوَايَتِهِউলামাদের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত যে, মাওদূ’ হাদীসের অবস্থা জানা কোনো ব্যক্তির জন্য বানোয়াট হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করে এটি বর্ণনা করা হালাল নয়, যে কোনো বিষয়েই হোক না কেন। এর দলীল হলো সহীহ মুসলিমের হাদীস:
“যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন হাদীস বর্ণনা করে যা মিথ্যা বলে তার ধারণা হয়, সে মিথ্যাবাদীদের অন্যতম।”[১০১]
বানোয়াটকারীদের রচনাপদ্ধতি
طُرُقُ الْوَضَّاعِيْنَ فِي صِيَاغَةِ الْحَدِيْثِবানোয়াটকারীরা হাদীস রচনায় দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করে:
নিজে কথা রচনা
বানোয়াটকারী নিজেই কথা তৈরি করে, অতঃপর এর জন্য একটি সনদ রচনা করে বর্ণনা করে।
অন্যের কথা গ্রহণ
হিকমতপূর্ণ ব্যক্তি বা অন্য কারো কথা নিয়ে এর জন্য সনদ তৈরি করে হাদীস হিসেবে চালিয়ে দেওয়া।
মাওদূ’ হাদীস কীভাবে চেনা যায়?
كَيْفَ يُعْرَفُ الْحَدِيْثُ الْمَوْضُوْعُ؟সনদ পরীক্ষা ছাড়াও কিছু বিষয় থেকে মাওদূ’ হাদীস চেনা যায়:
বানোয়াটকারীর নিজের স্বীকৃতি
যেমন আবূ ইসমাহ নূহ ইবনু আবী মারইয়ামের স্বীকৃতি যে, তিনি ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমার সূত্রে কুরআনের প্রতিটি সূরার ফযীলত বিষয়ক হাদীস বানিয়েছেন।
স্বীকৃতির সমতুল্য পরিস্থিতি
যেমন: কোনো রাবী একজন শায়খ থেকে বর্ণনা করে, অতঃপর তার জন্মতারিখ জিজ্ঞাসা করা হলে দেখা যায় যে সেই শায়খের মৃত্যু তার জন্মের আগে; এবং সেই হাদীস শুধু তার সূত্রেই পাওয়া যায়।
রাবীর মধ্যে কারীনাহ (সূচক)
যেমন: রাবী রাফিদী (শীআ চরমপন্থী) এবং হাদীসটি আহলে বায়তের ফযীলত বিষয়ে।
বর্ণিত বিষয়ে কারীনাহ (সূচক)
যেমন: হাদীসের শব্দ দুর্বল ও অশোভন, অথবা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতার বিরোধী, অথবা কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্যের পরিপন্থী।
বানোয়াটের উদ্দেশ্য ও বানোয়াটকারীদের শ্রেণি
دَوَاعِي الْوَضْعِ، وَأَصْنَافُ الْوَضَّاعِيْنَআল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে
মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করতে এবং মন্দ কাজ থেকে ভয় দেখাতে হাদীস বানানো। এরা যুহদ (বৈরাগ্য) ও সালাহ (সৎকর্মশীলতা)-এর দিকে সম্বন্ধিত একদল লোক। এরা সবচেয়ে ক্ষতিকর বানোয়াটকারী; কারণ তাদের প্রতি আস্থার কারণে মানুষ তাদের বানোয়াট হাদীস গ্রহণ করেছে।
এদের মধ্যে রয়েছে মায়সারাহ ইবনু আবদি রব্বিহী। ইবনু হিব্বান আদ-দুআফায় ইবনু মাহদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমি মায়সারাহকে বললাম: তুমি এই হাদীসগুলো কোথা থেকে এনেছ: ‘যে ব্যক্তি অমুক পড়বে তার জন্য অমুক পুরস্কার’? সে বলল: আমি মানুষকে উৎসাহিত করতে এগুলো বানিয়েছি।”[১০২]
মাযহাবের (দলীয় মতবাদের) পক্ষে সমর্থন
বিশেষত রাজনৈতিক দলগুলোর মতবাদ সমর্থনে। ফিতনা (গৃহযুদ্ধ) প্রকাশ এবং খাওয়ারিজ ও শীআর মতো রাজনৈতিক দলগুলোর আবির্ভাবের পর প্রতিটি দল তার মতবাদ সমর্থনে হাদীস বানিয়েছে।
যেমন: “عَلِيٌّ خَيْرُ الْبَشَرِ، مَنْ شَكَّ فِيْهِ كَفَرَ” (আলী সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, যে তাতে সন্দেহ করে সে কাফির)।
ইসলামে আঘাত হানা
এই বানোয়াটকারীরা যিন্দীক (মুনাফিক নাস্তিক) সম্প্রদায়ের লোক, যারা প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারেনি, তাই এই ঘৃণ্য পথে ইসলামকে বিকৃত ও কলুষিত করতে চেয়েছে।
এদের মধ্যে রয়েছে মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ আশ-শামী, যাকে যিন্দিকার অপরাধে শূলে চড়ানো হয়েছে। সে হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস থেকে মারফূআন বর্ণনা করেছে: “أَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّيْنَ لَا نَبِيَّ بَعْدِيْ، إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللهُ” (আমি সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোনো নবী নেই, তবে আল্লাহ যদি চান)।[১০৩] “إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللهُ” অংশটি বানোয়াট, যাতে নবুওয়্যতের দরজা খোলা রাখা যায়। হাদীসবিদ ইমামগণ আলহামদুলিল্লাহ এসব হাদীসের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
শাসকদের তোষামোদ
কিছু দুর্বল ঈমানের ব্যক্তি শাসকদের কাছে নৈকট্য অর্জনের জন্য তাদের বিচ্যুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদীস বানিয়েছে।
যেমন গিয়াস ইবনু ইবরাহীম আন-নাখাঈ আল-কূফীর ঘটনা। তিনি আমীরুল মু’মিনীন মাহদীর দরবারে প্রবেশ করলেন, যখন মাহদী কবুতর নিয়ে খেলছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ সনদসহ নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করলেন: “لَا سَبَقَ إِلَّا فِيْ نَصْلٍ، أَوْ خُفٍّ، أَوْ حَافِرٍ، أَوْ جَنَاحٍ”; অর্থাৎ “তীর, উটের ক্ষুর, ঘোড়ার ক্ষুর বা ডানা ছাড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার নেই।” মাহদীর খাতিরে সে “أَوْ جَنَاحٍ” (বা ডানা) অংশটি বাড়িয়ে দিল (কবুতর উড়ানোকে বৈধ করতে)। মাহদী এটি বুঝতে পেরে কবুতরগুলো জবাই করার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: “আমিই তাকে এ কাজে প্ররোচিত করেছি।” অতঃপর এই তোষামোদকারী বানোয়াটকারীকে বিতাড়িত করলেন।
জীবিকা অর্জন ও উপার্জন
কিছু গল্পকথক (কুস্সাস) যারা মানুষের সামনে গল্প বলে উপার্জন করত, তারা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ ও অর্থ লাভের জন্য বিস্ময়কর ও মনোরঞ্জক কিস্সা বানিয়ে বলত। যেমন আবূ সাঈদ আল-মাদাইনী।
প্রসিদ্ধি অর্জনের উদ্দেশ্য
কোনো হাদীসের শায়খের কাছে পাওয়া যায় না এমন অদ্ভুত (গরীব) হাদীস উপস্থাপন করা, যাতে মানুষ তার কাছে শুনতে আসে। এজন্য তারা হাদীসের সনদ পরিবর্তন (কলব) করত। যেমন ইবনু আবী দুহইয়াহ ও হাম্মাদ আন-নাসীবী।[১০৪]
হাদীস বানোয়াটে কাররামিয়্যা সম্প্রদায়ের মাযহাব
مَذَاهِبُ الْكَرَّامِيَّةِ فِي وَضْعِ الْحَدِيْثِكَرَّامِيَّة কাররামিয়্যাহ নামে পরিচিত একটি বিদআতী সম্প্রদায় দাবি করেছে যে, শুধুমাত্র তারগীব (উৎসাহ দান) ও তারহীব (ভয় প্রদর্শন) বিষয়ে হাদীস বানানো জায়েয। তারা দলীল হিসেবে “مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا” হাদীসের কিছু সূত্রে আগত “لِيُضِلَّ النَّاسَ” (মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে) এই অতিরিক্ত অংশটি পেশ করেছে; কিন্তু হাদীসের হাফিযগণের নিকট এই অতিরিক্ত অংশ প্রমাণিত নয়।
তাদের কেউ কেউ বলেছে: “আমরা তাঁর পক্ষে মিথ্যা বলি, তাঁর বিরুদ্ধে নয়।” এই যুক্তি চরম হাস্যকর; কারণ নবী ﷺ-এর শরীআত প্রচারের জন্য মিথ্যাবাদীদের প্রয়োজন নেই।
এই দাবি মুসলিমদের ইজমার পরিপন্থী। এমনকি শায়খ আবূ মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনী হাদীস বানোয়াটকারীকে কাফির বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
কিছু মুফাসসিরের তাফসীরে মাওদূ’ হাদীস উল্লেখ করার ভুল
خَطَأُ بَعْضِ الْمُفَسِّرِيْنَকিছু মুফাসসির তাঁদের তাফসীর গ্রন্থে মাওদূ’ হাদীস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন, বানোয়াট হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করেই। বিশেষত উবাই ইবনু কা’ব রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত কুরআনের প্রতিটি সূরার ফযীলত বিষয়ক হাদীস। এই ভুলকারী মুফাসসিরদের মধ্যে রয়েছেন:
এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি
أَشْهَرُ الْمُصَنَّفَاتِ فِيْهِকিতাবুল মাওদূআত (كِتَابُ الْمَوْضُوْعَاتِ)
এই বিষয়ে প্রাচীনতম রচনাগুলোর অন্যতম। তবে হাদীসকে মাওদূ’ বলার ক্ষেত্রে তিনি মুতাসাহিল (শিথিল); তাই উলামায়ে কিরাম তাঁর সমালোচনা ও পর্যালোচনা করেছেন।
আল-লাআলিল মাসনূআহ ফিল আহাদীসিল মাওদূআহ (اَللَّآلِئُ الْمَصْنُوْعَةُ فِي الْأَحَادِيْثِ الْمَوْضُوْعَةِ)
ইবনুল জাওযীর গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার, এর উপর পর্যালোচনা এবং ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেননি এমন অতিরিক্ত হাদীস সংযোজন।
তানযীহুশ শরীআতিল মারফূআহ আনিল আহাদীসিশ শানীআতিল মাওদূআহ (تَنْزِيْهُ الشَّرِيْعَةِ الْمَرْفُوْعَةِ عَنِ الْأَحَادِيْثِ الشَّنِيْعَةِ الْمَوْضُوْعَةِ)
পূর্ববর্তী দুটি গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার। এটি একটি সমৃদ্ধ, সুসম্পাদিত ও উপকারী গ্রন্থ।
মাতরূক (পরিত্যক্ত)
اَلْمَتْرُوْكُত্রুটির কারণ: মিথ্যার অভিযোগ (দ্বিতীয় কারণ)[১০৫]
সংজ্ঞা
تَعْرِيْفُهُ(ক) শাব্দিক অর্থ: مَتْرُوْك মাতরূক শব্দটি ইসমে মাফঊল (কর্মবাচক বিশেষ্য), تَرْك তারক (পরিত্যাগ) থেকে উদ্ভূত। আরবরা ডিম থেকে ছানা বের হওয়ার পর সেই ডিমকে تَرِيْكَة তারীকাহ বলে; অর্থাৎ পরিত্যক্ত, কোনো কাজে আসে না।[১০৬]
(খ) পারিভাষিক অর্থ: যে হাদীসের সনদে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত রাবী রয়েছে।[১০৭]
রাবীকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করার কারণ
أَسْبَابُ اتِّهَامِ الرَّاوِي بِالْكَذِبِরাবীকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করার কারণ দুটির যে কোনো একটি:
হাদীসটি শুধু তাঁর সূত্রেই পাওয়া যায় এবং তা সর্বজনবিদিত নিয়মাবলির[১০৮] পরিপন্থী
রাবী সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যাবাদী বলে পরিচিত, তবে নবী ﷺ-এর হাদীসে তাঁর মিথ্যা প্রকাশ পায়নি
উদাহরণ
مِثَالُهُআমর ইবনু শামর আল-জু’ফী আল-কূফীর হাদীস; তিনি জাবির থেকে, তিনি আবুত তুফায়ল থেকে, তিনি আলী ও আম্মার রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন: “নবী ﷺ ফজরে কুনূত পড়তেন, আরাফার দিন থেকে তাকবীর দিতেন এবং তাশরীকের শেষ দিনে আসরের সালাতের পর বন্ধ করতেন।”
নাসাঈ, দারাকুতনী প্রমুখ আমর ইবনু শামর সম্পর্কে বলেছেন: “مَتْرُوْكُ الْحَدِيْثِ” (তাঁর হাদীস পরিত্যক্ত)।[১০৯]
দঈফের মর্যাদাক্রমে মাতরূকের অবস্থান
رُتْبَتُهُপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে দঈফের সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রকার হলো মাওদূ’। মাওদূ’র পরই মাতরূকের অবস্থান, অতঃপর মুনকার, অতঃপর মু’আল্লাল, অতঃপর মুদরাজ, অতঃপর মাকলূব, অতঃপর মুদতারিব। হাফিয ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ এই ক্রমটি নির্ধারণ করেছেন।[১১০]
পাদটীকা
[১০০] তাদরীবুর রাবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৪।
[১০১] মুকাদ্দিমাতু মুসলিম সহ শরহুন নববী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬২। “يُرَى” অর্থাৎ ধারণা করে।
[১০২] তাদরীবুর রাবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৩।
[১০৩] পূর্বোক্ত সূত্র, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৪।
[১০৪] পূর্বোক্ত সূত্র, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৬।
[১০৫] এই প্রকারটি হাফিয ইবনু হাজার নুখবাহতে উল্লেখ করেছেন; তাঁর পূর্বে ইবনুস সালাহ ও নববী এটি উল্লেখ করেননি।
[১০৬] দেখুন: আল-কামূস, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩০৬।
[১০৭] নুখবাতুল ফিকার সহ নুযহাতুন নাযার শরাহ, পৃষ্ঠা ৪৭।
[১০৮] সর্বজনবিদিত নিয়মাবলি হলো: সেই সাধারণ নিয়মাবলি যা উলামায়ে কিরাম বিভিন্ন সহীহ নস (দলীল) থেকে ইস্তিম্বাত (উদ্ঘাটন) করেছেন। যেমন: “মূলনীতি হলো দায়মুক্তি” (اَلْأَصْلُ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ)।
[১০৯] মীযানুল ই’তিদাল, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৬৮।
[১১০] দেখুন: তাদরীবুর রাবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৫; নুখবাহ সহ নুযহাতুন নাযার শরাহ, পৃষ্ঠা ৪৬ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।
Discover more from Debunking Misguidance
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
