খ. গোপন বিচ্ছিন্নতার প্রকারভেদ
মুদাল্লাস (প্রকৃত অবস্থা গোপনকৃত)
اَلْمُدَلَّسُতাদলীসের সংজ্ঞা
تَعْرِيْفُ التَّدْلِيْسِ(ক) শাব্দিক অর্থ: مُدَلَّس মুদাল্লাস শব্দটি ইসমে মাফঊল (কর্মবাচক বিশেষ্য), تَدْلِيْس তাদলীস থেকে উদ্ভূত। তাদলীসের আভিধানিক অর্থ: ক্রেতার কাছ থেকে পণ্যের দোষ গোপন করা। তাদলীসের মূল উৎপত্তি دَلَس দালাস থেকে, যার অর্থ অন্ধকার বা অন্ধকারের মিশ্রণ[৮৫]। যেন মুদাল্লিস (তাদলীসকারী) হাদীসের প্রকৃত অবস্থা গোপন করে বিষয়টিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দিয়েছে, ফলে হাদীসটি মুদাল্লাস হয়ে গেছে।
(খ) পারিভাষিক অর্থ:
সনদের ত্রুটি গোপন করা এবং এর বাহ্যিক অবস্থা সুন্দর করে দেখানো।[৮৬]
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা
شَرْحُ التَّعْرِيْفِঅর্থাৎ মুদাল্লিস সনদের যে ত্রুটি আড়াল করে সেটি হলো সনদে বিচ্ছিন্নতা। মুদাল্লিস তাঁর শায়খকে বাদ দিয়ে শায়খের শায়খ থেকে বর্ণনা করেন এবং এই বাদ দেওয়া গোপন করার কৌশল অবলম্বন করেন। সনদের বাহ্যিক অবস্থা সুন্দর করে দেখান, যাতে যে ব্যক্তি সনদটি দেখবে সে মনে করে এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত), কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই।
তাদলীসের প্রকারভেদ
أَقْسَامُ التَّدْلِيْسِতাদলীসের দুটি প্রধান প্রকার:
তাদলীসুল ইসনাদ (تَدْلِيْسُ الْإِسْنَادِ)
সনদে তাদলীস
তাদলীসুশ শুয়ূখ (تَدْلِيْسُ الشُّيُوْخِ)
শায়খদের ক্ষেত্রে তাদলীস
তাদলীসুল ইসনাদ (সনদে তাদলীস)
تَدْلِيْسُ الْإِسْنَادِক. সংজ্ঞা: মুহাদ্দিসগণ এই প্রকার তাদলীসকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। আমি সবচেয়ে সঠিক ও সূক্ষ্ম সংজ্ঞাটি গ্রহণ করব, যা ইমাম আবূ বকর আহমাদ ইবনু আমর আল-বাযযার এবং আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান প্রদান করেছেন:
রাবী এমন শায়খ থেকে বর্ণনা করবেন যাঁর কাছ থেকে তিনি (অন্য কিছু) শুনেছেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট হাদীসটি তাঁর কাছ থেকে শোনেননি; এবং তিনি এটি তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন বলে দাবিও করেন না।[৮৭]
খ. সংজ্ঞার ব্যাখ্যা: তাদলীসুল ইসনাদের অর্থ হলো: রাবী এমন শায়খ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যাঁর কাছ থেকে তিনি কিছু হাদীস শুনেছেন, কিন্তু যে হাদীসটিতে তাদলীস করেছেন সেটি তাঁর কাছ থেকে শোনেননি। বরং তিনি সেটি অন্য একজন শায়খের মাধ্যমে শুনেছেন। তারপর তিনি সেই মাধ্যম শায়খকে বাদ দিয়ে প্রথম শায়খ থেকে এমন শব্দে বর্ণনা করেন যা শ্রবণ ও অ-শ্রবণ উভয়ের সম্ভাবনা বহন করে; যেমন “قَالَ” (তিনি বলেছেন) বা “عَنْ” (থেকে) ব্যবহার করেন, যাতে অন্যরা মনে করে তিনি এটি সরাসরি শুনেছেন। তবে তিনি “سَمِعْتُ” (আমি শুনেছি) বা “حَدَّثَنِيْ” (আমার নিকট বর্ণনা করেছেন) বলেন না, যাতে মিথ্যাবাদী না হন। তিনি একজন বা একাধিক রাবী বাদ দিতে পারেন।
গ. তাদলীসুল ইসনাদ ও ইরসালে খফীর মধ্যে পার্থক্য:
মুদাল্লিস ও মুরসিলে খফী উভয়েই এমন শায়খ থেকে বর্ণনা করেন যাঁর কাছ থেকে সেই হাদীস শোনেননি এবং শ্রবণ-অ-শ্রবণ উভয় সম্ভাবনাপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন। কিন্তু:
মুদাল্লিস: সেই শায়খ থেকে অন্য হাদীস শুনেছেন (অর্থাৎ শায়খের সাথে সামা’র সম্পর্ক আছে)।
মুরসিলে খফী: সেই শায়খ থেকে কোনো হাদীসই শোনেননি, তবে তাঁর সমসাময়িক ছিলেন বা তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
ঘ. উদাহরণ:
হাকিম[৮৮] তাঁর সনদে আলী ইবনু খাশরাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: “ইবনু উয়াইনাহ আমাদেরকে বললেন: ‘যুহরী থেকে…’ তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি এটি যুহরী থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: না, এবং যিনি যুহরী থেকে শুনেছেন তাঁর কাছ থেকেও নয়। বরং আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে।”
এই উদাহরণে ইবনু উয়াইনাহ তাঁর ও যুহরীর মধ্যবর্তী দুইজন রাবী বাদ দিয়েছেন।
তাদলীসুত তাসবিয়াহ (সমতাকরণের তাদলীস)
تَدْلِيْسُ التَّسْوِيَةِএটি মূলত তাদলীসুল ইসনাদেরই একটি প্রকার।
ক. সংজ্ঞা: রাবী তাঁর শায়খ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, অতঃপর দুইজন সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) রাবীর মধ্যবর্তী একজন দঈফ (দুর্বল) রাবীকে বাদ দেন, যেখানে সেই দুই সিকাহ পরস্পরের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
এর চিত্র: রাবী একটি হাদীস তাঁর সিকাহ শায়খ থেকে শোনেন। সেই সিকাহ শায়খ হাদীসটি একজন দঈফ রাবী থেকে শুনেছেন এবং সেই দঈফ শুনেছেন আরেকজন সিকাহ থেকে। দুই সিকাহ পরস্পরের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। এখন মুদাল্লিস (যিনি প্রথম সিকাহ থেকে হাদীস শুনেছেন) সনদের মাঝখানের দঈফ রাবীকে বাদ দিয়ে সনদ এভাবে তৈরি করেন: তাঁর সিকাহ শায়খ ← দ্বিতীয় সিকাহ; অর্থাৎ সম্পূর্ণ সনদ সিকাহ রাবীদের দিয়ে সমান (তাসবিয়াহ) করে দেন।
এই প্রকার তাদলীস সবচেয়ে মারাত্মক। কারণ প্রথম সিকাহ রাবী হয়তো তাদলীসকারী হিসেবে পরিচিত নন, আর তাসবিয়াহর পর যে ব্যক্তি সনদটি দেখবে সে পাবে একজন সিকাহ অপর সিকাহ থেকে বর্ণনা করছেন; ফলে সে সহীহ বলে হুকুম দিয়ে ফেলবে। এতে মারাত্মক প্রতারণা রয়েছে।
খ. এই কাজের জন্য সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দুইজন:
গ. উদাহরণ:
ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে বলেন: “আমি আমার পিতাকে শুনলাম; তিনি সেই হাদীসটির কথা বললেন যা ইসহাক ইবনু রাহূয়াহ, বাকিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। বাকিয়্যাহ বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবূ ওয়াহব আল-আসাদী, নাফি’ থেকে, তিনি ইবনু উমার থেকে। হাদীস:
“কোনো ব্যক্তির ইসলামের প্রশংসা করো না, যতক্ষণ না তোমরা তার মতামতের বন্ধন (প্রকৃত বিশ্বাস) জানতে পারো।”
আবূ হাতিম বলেন: “এই হাদীসের একটি রহস্য আছে যা খুব কম মানুষই বোঝে।” প্রকৃত সনদ হলো: উবায়দুল্লাহ ইবনু আমর (সিকাহ) ← ইসহাক ইবনু আবী ফারওয়াহ (দঈফ) ← নাফি’ (সিকাহ) ← ইবনু উমার।
বাকিয়্যাহ উবায়দুল্লাহ ইবনু আমরকে তাঁর কুনিয়াত “আবূ ওয়াহব” দিয়ে এবং তাঁর গোত্র “আসাদী” দিয়ে পরিচয় দিয়েছেন, যাতে তাঁকে চেনা না যায়। এরপর মাঝখানের দঈফ রাবী ইসহাক ইবনু আবী ফারওয়াহকে বাদ দিয়েছেন, যাতে কেউ তাঁর দুর্বলতা ধরতে না পারে।[৯০]
তাদলীসুশ শুয়ূখ (শায়খদের ক্ষেত্রে তাদলীস)
تَدْلِيْسُ الشُّيُوْخِক. সংজ্ঞা:
রাবী তাঁর শায়খ থেকে এমন হাদীস বর্ণনা করেন যা তিনি তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন, কিন্তু তাঁকে এমন নাম, কুনিয়াত, নিসবাহ বা বিশেষণে পরিচয় দেন যার দ্বারা তিনি পরিচিত নন, যাতে তাঁকে চেনা না যায়।[৯১]
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা
شَرْحُ التَّعْرِيْفِঅর্থাৎ মুদাল্লিস রাবী তাঁর শায়খ থেকে এমন হাদীস বর্ণনা করেন যা তিনি তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন। তাদলীসুশ শুয়ূখে কোনো রাবী বাদ দেওয়া বা সনদে হেরফের হয় না; বরং শায়খের নাম, কুনিয়াত, নিসবাহ বা বিশেষণে তামবীহ (ধোঁকা) ও আড়াল করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ ধরুন, শায়খের:
এসবকিছু শায়খের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু মানুষ তাঁকে এই নাম/কুনিয়াত/নিসবাহ/বিশেষণে চেনে না। এই অপরিচিত পরিচয়ে পরিচয় দেওয়াই তাদলীস। মুদাল্লিসের এটাই উদ্দেশ্য: তাঁকে এমনভাবে পরিচয় দেওয়া যাতে চেনা না যায়। এর কারণ হতে পারে শায়খের দুর্বলতা, বয়সে ছোট হওয়া বা অন্য কিছু।
খ. উদাহরণ:
কিরাআত শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম আবূ বকর ইবনু মুজাহিদ বলেন: “আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আব্দিল্লাহ”; তিনি এর দ্বারা আবূ বকর ইবনু আবী দাঊদ আস-সিজিস্তানী বোঝাতে চেয়েছেন।
তাদলীসের হুকুম
حُكْمُ التَّدْلِيْسِতাদলীসুল ইসনাদ
অত্যন্ত মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। অধিকাংশ উলামা এর নিন্দা করেছেন। শু’বাহ রহিমাহুল্লাহ এর সবচেয়ে কঠোর সমালোচক ছিলেন। তিনি বলেন: “তাদলীস মিথ্যার ভাই।”
তাদলীসুত তাসবিয়াহ
তাদলীসুল ইসনাদের চেয়েও অধিক মাকরূহ। ইরাকী রহিমাহুল্লাহ বলেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে, তার ক্ষেত্রে এটি জারহ (ত্রুটি) হিসেবে গণ্য।”
তাদলীসুশ শুয়ূখ
তাদলীসুল ইসনাদের চেয়ে কম মাকরূহ; কারণ এতে কোনো রাবী বাদ দেওয়া হয় না। অপছন্দের কারণ হলো: বর্ণনাকৃত শায়খের পরিচয় নষ্ট করা এবং শ্রোতার জন্য তাঁকে চেনার পথ কঠিন করা। এর মাকরূহ হওয়ার মাত্রা ভিন্ন হয় তাদলীসের পেছনের উদ্দেশ্য অনুসারে।
তাদলীসের উদ্দেশ্যসমূহ
اَلْأَغْرَاضُ الْحَامِلَةُ عَلَى التَّدْلِيْسِক. তাদলীসুশ শুয়ূখের চারটি উদ্দেশ্য:
খ. তাদলীসুল ইসনাদের পাঁচটি উদ্দেশ্য:
মুদাল্লিসের নিন্দার কারণ
أَسْبَابُ ذَمِّ الْمُدَلِّسِমুদাল্লিসের নিন্দার তিনটি কারণ:[৯২]
মুদাল্লিসের বর্ণনার হুকুম
حُكْمُ رِوَايَةِ الْمُدَلِّسِমুদাল্লিসের বর্ণনা গ্রহণ করা নিয়ে উলামাদের মতভেদ রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দুটি মত:
মুদাল্লিসের বর্ণনা সর্বাবস্থায় প্রত্যাখ্যাত, এমনকি তিনি সামা’ (শ্রবণ) স্পষ্ট করলেও; কারণ তাদলীস নিজেই জারহ (ত্রুটি)। এই মত গৃহীত নয়।
১. যদি তিনি সামা’ (শ্রবণ) স্পষ্ট করেন, অর্থাৎ “سَمِعْتُ” (আমি শুনেছি) বা অনুরূপ শব্দ বলেন, তাহলে তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য।
২. যদি তিনি সামা’ স্পষ্ট না করেন, অর্থাৎ “عَنْ” বা অনুরূপ শব্দ বলেন, তাহলে তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।[৯৩]
তাদলীস কীভাবে চেনা যায়?
بِمَ يُعْرَفُ التَّدْلِيْسُ؟তাদলীস দুটি উপায়ে চেনা যায়:
মুদাল্লিসের নিজের স্বীকৃতি
জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিজেই জানান যে তাদলীস করেছেন; যেমনটি ইবনু উয়াইনাহর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
এই শাস্ত্রের কোনো ইমামের বক্তব্য
গবেষণা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে কোনো ইমাম তাদলীস সম্পর্কে জানান।
তাদলীস ও মুদাল্লিসীন বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি
أَشْهَرُ الْمُصَنَّفَاتِ فِي التَّدْلِيْسِ وَالْمُدَلِّسِيْنَতিনটি গ্রন্থ
একটি মুদাল্লিসগণের নাম বিষয়ক, নাম: আত-তাবয়ীন লিআসমাইল মুদাল্লিসীন (اَلتَّبْيِيْنُ لِأَسْمَاءِ الْمُدَلِّسِيْنَ)[৯৪]। বাকি দুটিতে প্রতিটিতে তাদলীসের একটি করে প্রকারের বিবরণ[৯৫]।
আত-তাবয়ীন লিআসমাইল মুদাল্লিসীন (اَلتَّبْيِيْنُ لِأَسْمَاءِ الْمُدَلِّسِيْنَ)
মুদ্রিত।
তা’রীফু আহলিত তাকদীস বিমারাতিবিল মাওসূফীনা বিত তাদলীস (تَعْرِيْفُ أَهْلِ التَّقْدِيْسِ بِمَرَاتِبِ الْمَوْصُوْفِيْنَ بِالتَّدْلِيْسِ)
মুদ্রিত।
পাদটীকা
[৮৫] আল-কামূস (اَلْقَامُوْس), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৪।
[৮৬] বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ঈহাম (بَيَانُ الْوَهْمِ وَالْإِيْهَامِ), আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান।
[৮৭] শরহু আলফিয়্যাতিল ইরাকী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮০; বাযযার ও আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান থেকে নকল, সামান্য পরিমার্জনাসহ।
[৮৮] মা’রিফাতু উলূমিল হাদীস, পৃষ্ঠা ১৩০।
[৮৯] মীযানুল ই’তিদাল, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩২।
[৯০] শরহুল আলফিয়্যাহ লিল ইরাকী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯০; তাদরীবুর রাবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২৫।
[৯১] উলূমুল হাদীস, পৃষ্ঠা ৬৬।
[৯২] দেখুন: আল-কিফায়াহ, পৃষ্ঠা ৩৫৮।
[৯৩] উলূমুল হাদীস, পৃষ্ঠা ৬৭-৬৮।
[৯৪] আল-কিফায়াহ, পৃষ্ঠা ৩৬১।
[৯৫] আল-কিফায়াহ, পৃষ্ঠা ৩৫৭।
Discover more from Debunking Misguidance
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
