চতুর্থ অধ্যায়: ইসনাদ এবং তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনা; ২য় অংশ | তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস

الفَصْلُ الثَّانِي: مَعْرِفَةُ الرُّوَاةِ

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাবীদের পরিচিতি

المَبْحَثُ الأَوَّلُ: مَعْرِفَةُ الصَّحَابَةِ

প্রথম মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): সাহাবীদের পরিচিতি

সাহাবীর সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُ الصَّحَابِيِّ

ক. ভাষাগত অর্থে: الصَّحَابَة আস-সাহাবাহ শব্দটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ “সঙ্গ” বা “সাহচর্য”। এখান থেকেই الصَّحَابِيّ (সাহাবী) ও الصَّاحِب (সাহিব) শব্দ এসেছে। এর বহুবচন أَصْحَاب (আসহাব) ও صَحْب (সাহব)। “সাহাবাহ” শব্দটি “আসহাব” এর অর্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

খ. পারিভাষিক অর্থে: যিনি নবী ﷺ-এর সাথে মুসলিম অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করেছেন; এর মাঝখানে যদি رِدَّة রিদ্দাহমুরতাদ হয়ে যাওয়া ঘটেও থাকে; বিশুদ্ধ মতে তিনি সাহাবী[২৫]


গুরুত্ব ও ফায়দা

أَهَمِّيَّتُهُ وَفَائِدَتُهُ

সাহাবীদের পরিচিতি একটি বিশাল, গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত ফায়দাদায়ক ইলম। এর অন্যতম ফায়দা হলো মুত্তাসিল সনদকে মুরসাল থেকে আলাদা করে চেনা।


কোন পদ্ধতিতে সাহাবীর সুহবাত (সঙ্গ) জানা যায়?

بِمَ تُعْرَفُ صُحْبَةُ الصَّحَابِيِّ؟

সাহাবীর সুহবাত পাঁচটি পদ্ধতির যেকোনো একটির মাধ্যমে জানা যায়:

সাহাবী চেনার পাঁচটি পদ্ধতি
তাওয়াতুর (ব্যাপক প্রসিদ্ধি)
যেমন: আবূ বকর আস-সিদ্দীক, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব এবং বাকি ‘আশারা মুবাশশারা (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন) রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম।
শুহরাহ (প্রসিদ্ধি)
যেমন: দিমাম ইবনু সা’লাবাহ এবং ‘উক্কাশাহ ইবনু মিহসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা।
কোনো সাহাবীর সাক্ষ্য
একজন সাহাবী অন্য কারো সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে তিনিও সাহাবী।
নির্ভরযোগ্য তাবি’ঈর সাক্ষ্য
কোনো সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) তাবি’ঈ সাক্ষ্য দেন যে, অমুক ব্যক্তি সাহাবী ছিলেন।
নিজের সম্পর্কে নিজের বক্তব্য
শর্ত: তিনি ‘আদিল হবেন এবং তাঁর দাবি সম্ভাব্য হবে[২৬]

সকল সাহাবীর তা’দীল

تَعْدِيْلُ جَمِيْعِ الصَّحَابَةِ
একটি গুরুত্বপূর্ণ ইজমা’

সকল সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম ‘আদিল; তাঁদের মধ্যে যাঁরা ফিতনার (সংঘাতের) সময়ে জড়িত ছিলেন এবং যাঁরা ছিলেন না, উভয়েই। এই বিষয়ে গ্রহণযোগ্য সকল আলিমের ইজমা’ (ঐকমত্য) রয়েছে।

সাহাবীদের ‘আদালাহ এর অর্থ হলো: তাঁরা বর্ণনায় ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বা বিচ্যুতি থেকে দূরে থেকেছেন; এমন কোনো কাজ তাঁরা করেননি যা তাঁদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে। ফলে তাঁদের সকল বর্ণনা গৃহীত; তাঁদের ‘আদালাহ নিয়ে আলাদা গবেষণার প্রয়োজন নেই।

তাঁদের মধ্যে যাঁরা ফিতনায় জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিষয়টি তাঁদের ইজতিহাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হবে; যার জন্য প্রত্যেকেই পুরস্কৃত হবেন। কারণ তাঁদের প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করা আবশ্যক; কেননা তাঁরা শরী’আতের বাহক এবং خَيْرُ القُرُوْنِ খাইরুল কুরূনশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এর অন্তর্ভুক্ত।


সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ

أَكْثَرُهُمْ حَدِيْثًا

সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী ছয়জন। তাঁদেরকে বলা হয় المُكْثِرُوْن আল-মুকসিরূনঅধিক বর্ণনাকারী। ক্রমানুসারে তাঁরা হলেন:

সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনাকারী ছয় সাহাবী (আল-মুকসিরূন)
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
মোট হাদীস: ৫,৩৭৪টি। তাঁর থেকে তিন শতাধিক রাবী হাদীস বর্ণনা করেছেন।
‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা
মোট হাদীস: ২,৬৩০টি
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
মোট হাদীস: ২,২৮৬টি
উম্মুল মু’মিনীন ‘আইশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা
মোট হাদীস: ২,২১০টি
‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা
মোট হাদীস: ১,৬৬০টি
জাবির ইবনু ‘আব্দিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা
মোট হাদীস: ১,৫৪০টি

সবচেয়ে বেশি ফাতওয়াদানকারী সাহাবীগণ

أَكْثَرُهُمْ فُتْيَا

সবচেয়ে বেশি যাঁর থেকে ফাতওয়া বর্ণিত হয়েছে তিনি হলেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা। তারপর সাহাবীদের মধ্যে বড় আলিমগণ; যাঁরা ছয়জন। মাসরূক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

اِنْتَهٰى عِلْمُ الصَّحَابَةِ إِلٰى سِتَّةٍ: عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، وَأَبِي الدَّرْدَاءِ، وَابْنِ مَسْعُوْدٍ، ثُمَّ انْتَهٰى عِلْمُ السِّتَّةِ إِلٰى عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ

“সাহাবীদের ইলম ছয়জনে গিয়ে পৌঁছেছে: ‘উমার, ‘আলী, উবাই ইবনু কা’ব, যাইদ ইবনু সাবিত, আবুদ দারদা এবং ইবনু মাস’ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম। তারপর সেই ছয়জনের ইলম গিয়ে পৌঁছেছে ‘আলী ও ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার কাছে।”


আল-‘আবাদিলাহ কারা?

مَنْ هُمُ العَبَادِلَةُ؟

العَبَادِلَة আল-‘আবাদিলাহ শব্দটি মূলত সেই সকল সাহাবীকে বোঝায় যাঁদের নাম “‘আব্দুল্লাহ”। সাহাবীদের মধ্যে এমন ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় তিনশতেরও বেশি। তবে এখানে “আল-‘আবাদিলাহ” বলতে নির্দিষ্টভাবে চারজন সাহাবীকে বোঝানো হয়; যাঁদের প্রত্যেকের নাম ‘আব্দুল্লাহ:

ক. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা
খ. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা
গ. ‘আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা
ঘ. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা

এঁদের বিশেষত্ব হলো, এঁরা সাহাবীদের মধ্যে বড় আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত; যাঁদের ইন্তিকাল অপেক্ষাকৃত দেরিতে হয়েছিল। ফলে তাঁদের ইলমের প্রয়োজন অনেকদিন পর্যন্ত চলেছে। এই কারণে তাঁরা এই বিশেষ মর্যাদা ও প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন। তাঁরা চারজন যদি কোনো ফাতওয়ার বিষয়ে একমত হতেন, তখন বলা হতো: “এটি আল-‘আবাদিলাহর মত।”


সাহাবীদের সংখ্যা

عَدَدُ الصَّحَابَةِ

সাহাবীদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা যায়নি। তবে আলিমদের বিভিন্ন উক্তি থেকে বোঝা যায় যে, তাঁদের সংখ্যা এক লক্ষের বেশি ছিল। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উক্তি হলো আবূ যুর’আহ আর-রাযী রহিমাহুল্লাহর বক্তব্য:

قُبِضَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنْ مِائَةِ أَلْفٍ وَأَرْبَعَةَ عَشَرَ أَلْفًا مِنَ الصَّحَابَةِ مِمَّنْ رَوٰى عَنْهُ وَسَمِعَ مِنْهُ

“রাসূলুল্লাহ ﷺ ইন্তিকাল করেছেন এমন অবস্থায় যে, তখন তাঁর থেকে বর্ণনাকারী ও তাঁর থেকে শ্রবণকারী সাহাবীদের সংখ্যা ছিল এক লক্ষ চৌদ্দ হাজার।”[২৭]


তথ্যসূত্র ও টীকা

[২৫] নুখবাতুল ফিকর (نُخْبَةُ الفِكَرِ), পৃষ্ঠা ৫৭।

[২৬] যেমন কেউ নবী ﷺ-এর ইন্তিকালের ১০০ বছরের মধ্যে সুহবাতের দাবি করলে তা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু যদি অনেক পরের যুগে কেউ দাবি করেন, তাহলে তাঁর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন “রাতান আল-হিন্দী” ৬০০ হিজরীর পরে সুহবাতের দাবি করেছিলেন; প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একজন প্রতারক বৃদ্ধ, যেমনটি ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ মীযানুল ই’তিদাল (مِيْزَانُ الاِعْتِدَالِ), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫ এ উল্লেখ করেছেন।

[২৭] উল্লেখ্য, এই সংখ্যা শুধুমাত্র সেই সাহাবীদেরই নির্দেশ করে যাঁরা রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে সরাসরি হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। মোট সাহাবীর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

সাহাবীদের তবকাসমূহের (স্তর) সংখ্যা

عَدَدُ طَبَقَاتِهِمْ

সাহাবীদের তবকার সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ তাঁদেরকে ইসলাম গ্রহণ বা হিজরতের অগ্রগামিতা অথবা কোন বিশিষ্ট যুদ্ধে উপস্থিতির ভিত্তিতে ভাগ করেছেন। অন্যরা ভিন্ন ভিত্তিতে ভাগ করেছেন। প্রত্যেকেই নিজস্ব ইজতিহাদ অনুযায়ী ভাগ করেছেন।

ক. ইবনু সা’দ রহিমাহুল্লাহ তাঁদেরকে পাঁচ তবকায় ভাগ করেছেন।
খ. ইমাম হাকিম রহিমাহুল্লাহ তাঁদেরকে বারো তবকায় ভাগ করেছেন।

১০

সাহাবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ

أَفْضَلُهُمْ

আহলুস সুন্নাহর ইজমা’ অনুযায়ী, সাহাবীদের মর্যাদার ক্রম নিম্নরূপ:

সাহাবীদের মর্যাদার ক্রম
আবূ বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
সর্বসম্মতভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবী।
‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
আহলুস সুন্নাহর ইজমা’ অনুযায়ী দ্বিতীয়।
‘উসমান ইবনু ‘আফফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
আহলুস সুন্নাহর জমহূরের মত।
‘আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
আহলুস সুন্নাহর জমহূরের মত।
‘আশারা মুবাশশারার বাকি সদস্যগণ
জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের বাকিরা।
আহলু বদর, আহলু উহুদ, আহলু বাইআতির রিদওয়ান
বদরে অংশগ্রহণকারী, উহুদে অংশগ্রহণকারী, এবং বাইআতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ।

১১

সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারীগণ

أَوَّلُهُمْ إِسْلَامًا
বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী
স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে
আবূ বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
বালকদের মধ্যে
‘আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
মহিলাদের মধ্যে
উম্মুল মু’মিনীন খাদীজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা
মাওলাদের (মুক্ত দাস) মধ্যে
যাইদ ইবনু হারিসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
দাসদের মধ্যে
বিলাল ইবনু রাবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু

১২

সর্বশেষ ইন্তিকালকারী সাহাবী

آخِرُهُمْ مَوْتًا

আবুত তুফাইল ‘আমির ইবনু ওয়াসিলাহ আল-লাইসী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; তিনি ১০০ হিজরীতে মক্কা মুকাররামায় ইন্তিকাল করেন। কেউ কেউ বলেছেন তারও পরে।

তাঁর আগে সর্বশেষ ইন্তিকালকারী ছিলেন আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; তিনি ৯৩ হিজরীতে বসরায় ইন্তিকাল করেন।


১৩

এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-ইসাবাহ ফী তামীযিস সাহাবাহ (الإِصَابَةُ فِيْ تَمْيِيْزِ الصَّحَابَةِ)

হাফিয ইবনু হাজার আল-‘আসকালানী রহিমাহুল্লাহ

উসদুল গাবাহ ফী মা’রিফাতিস সাহাবাহ (أُسْدُ الغَابَةِ فِيْ مَعْرِفَةِ الصَّحَابَةِ)

‘আলী ইবনু মুহাম্মাদ আল-জাযারী রহিমাহুল্লাহ (ইবনুল আসীর নামে প্রসিদ্ধ)

আল-ইসতী’আব ফী আসমাইল আসহাব (الاِسْتِيْعَابُ فِيْ أَسْمَاءِ الأَصْحَابِ)

ইবনু ‘আব্দিল বার রহিমাহুল্লাহ

المَبْحَثُ الثَّانِي: مَعْرِفَةُ التَّابِعِيْنَ

দ্বিতীয় মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): তাবি’ঈনদের পরিচিতি

তাবি’ঈর সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُ التَّابِعِيِّ

ক. ভাষাগত অর্থে: التَّابِعُوْن আত-তাবি’ঊন হলো تَابِعِيّ (তাবি’ঈ) অথবা تَابِع (তাবি’) এর বহুবচন। তাবি’ হলো ইসমু ফা’ইল যা تَبِعَهُ (তাবি’আহু; তাঁকে অনুসরণ করল) থেকে; অর্থ কারো পেছনে চলা।

খ. পারিভাষিক অর্থে: যিনি কোনো সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সাথে মুসলিম অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করেছেন[২৮]। আরেকটি মত: যিনি কোনো সাহাবীর সুহবাত (সঙ্গ) লাভ করেছেন[২৯]


এর ফায়দা

مِنْ فَوَائِدِهِ

মুরসাল হাদীসকে মুত্তাসিল হাদীস থেকে আলাদা করে চেনা।


তাবি’ঈনদের তবকাসমূহ

طَبَقَاتُ التَّابِعِيْنَ

তাবি’ঈনদের তবকার সংখ্যা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। প্রতিটি আলিম নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ভাগ করেছেন।

ক. ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ তাঁদেরকে তিন তবকায় ভাগ করেছেন।
খ. ইবনু সা’দ রহিমাহুল্লাহ তাঁদেরকে চার তবকায় ভাগ করেছেন।
গ. ইমাম হাকিম রহিমাহুল্লাহ তাঁদেরকে পনেরো তবকায় ভাগ করেছেন। এর প্রথম তবকা হলো যাঁরা দশজন সাহাবী (‘আশারা মুবাশশারা) এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

আল-মুখাদরামূন

المُخَضْرَمُوْنَ

المُخَضْرَمُوْن আল-মুখাদরামূন হলো مُخَضْرَم (মুখাদরাম) এর বহুবচন। মুখাদরাম হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি জাহিলী যুগ এবং নবী ﷺ-এর যুগ উভয়ই পেয়েছেন, কিন্তু তাঁকে (নবী ﷺ-কে) দেখেননি। বিশুদ্ধ মতে, মুখাদরামগণ তাবি’ঈনদের অন্তর্ভুক্ত।

অনুবাদকের কথা

মুখাদরামদের অবস্থানটি একটু আলাদা। তাঁরা নবী ﷺ-এর সময়ে জীবিত ছিলেন এবং মুসলিম হয়েছিলেন; কিন্তু নানা কারণে (যেমন দূরে থাকার কারণে) তাঁরা নবী ﷺ-এর সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাননি। সাক্ষাৎ না হওয়ায় তাঁরা সাহাবী নন; কিন্তু সাহাবী যুগে জীবিত থাকায় তাঁদেরকে তাবি’ঈনদের একটি বিশেষ শ্রেণি হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ মুখাদরামদের সংখ্যা গণনা করেছেন প্রায় বিশ জন। তবে বিশুদ্ধ মতে তাঁদের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আবূ ‘উসমান আন-নাহদী এবং আল-আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ আন-নাখা’ঈ।


ফুকাহাউস সাব’আহ (সাত ফকীহ)

الفُقَهَاءُ السَّبْعَةُ

তাবি’ঈনদের মধ্যে অন্যতম বড় ব্যক্তিত্ব হলেন الفُقَهَاءُ السَّبْعَةُ আল-ফুকাহাউস সাব’আহসাত ফকীহ। তাঁরা তাবি’ঈনদের বড় আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত এবং সকলেই মদীনার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁরা হলেন[৩০]:

মদীনার সাত তাবি’ঈ ফকীহ
সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহিমাহুল্লাহ
আল-কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ
‘উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর রহিমাহুল্লাহ
খারিজাহ ইবনু যাইদ রহিমাহুল্লাহ
আবূ সালামাহ ইবনু ‘আব্দির রহমান রহিমাহুল্লাহ
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আব্দিল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ রহিমাহুল্লাহ
সুলাইমান ইবনু ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ

তথ্যসূত্র ও টীকা

[২৮] নুখবাতুল ফিকর (نُخْبَةُ الفِكَرِ) এবং তার শারহ, পৃষ্ঠা ৫৮।

[২৯] আল-কিফায়াহ (الكِفَايَةُ), পৃষ্ঠা ২২।

[৩০] আত-তাকরীব মা’আত তাদরীব (التَّقْرِيْبُ مَعَ التَّدْرِيْبِ): ২/২২০।

তাবি’ঈনদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ

أَفْضَلُ التَّابِعِيْنَ

তাবি’ঈনদের মধ্যে কে সর্বশ্রেষ্ঠ, এ বিষয়ে আলিমদের বিভিন্ন মত রয়েছে। প্রসিদ্ধ মত হলো সর্বশ্রেষ্ঠ তাবি’ঈ হলেন সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহিমাহুল্লাহ।

আবূ ‘আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু খাফীফ আশ-শীরাযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

অঞ্চলভেদে সর্বশ্রেষ্ঠ তাবি’ঈ
মদীনাবাসীর মত
সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহিমাহুল্লাহ
কূফাবাসীর মত
উওয়াইস আল-করনী রহিমাহুল্লাহ
বাসরাবাসীর মত
আল-হাসান আল-বাসরী রহিমাহুল্লাহ
অনুবাদকের কথা

ফুকাহাউস সাব’আহ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ টীকা: ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ এই তালিকায় আবূ সালামাহর স্থানে সালিম ইবনু ‘আব্দিল্লাহ ইবনু ‘উমারকে রেখেছেন। আবূয যিনাদ রহিমাহুল্লাহ এই দুইজনের (সালিম ও আবূ সালামাহ) স্থানে আবূ বকর ইবনু ‘আব্দির রহমানকে রেখেছেন[৩১]


তাবি’ঈ মহিলাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ

أَفْضَلُ التَّابِعِيَّاتِ

আবূ বকর ইবনু আবী দাউদ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

سَيِّدَتَا التَّابِعِيَّاتِ: حَفْصَةُ بِنْتُ سِيْرِيْنَ، وَعَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ، وَتَلِيْهِمَا أُمُّ الدَّرْدَاءِ

“তাবি’ঈ মহিলাদের নেত্রী হলেন হাফসাহ বিনতু সীরীন ও ‘আমরাহ বিনতু ‘আব্দির রহমান। এরপর তাঁদের পরে উম্মুদ দারদা।”[৩২]

অনুবাদকের কথা

এখানে “উম্মুদ দারদা” বলতে أُمُّ الدَّرْدَاءِ الصُّغْرٰى উম্মুদ দারদা আস-সুগরা অর্থাৎ ছোট উম্মুদ দারদাকে বোঝানো হয়েছে; তাঁর নাম হুজাইমাহ (কেউ বলেন জুহাইমাহ)। তিনি আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর স্ত্রী ছিলেন।

আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর আরেকজন স্ত্রী ছিলেন أُمُّ الدَّرْدَاءِ الكُبْرٰى উম্মুদ দারদা আল-কুবরা অর্থাৎ বড় উম্মুদ দারদা; তাঁর নাম খাইরাহ। তিনি সাহাবিয়্যাহ (মহিলা সাহাবী) ছিলেন, তাবি’ঈনদের অন্তর্ভুক্ত নন।


এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

মা’রিফাতুত তাবি’ঈন (مَعْرِفَةُ التَّابِعِيْنَ)

আবুল মুতাররিফ ইবনু ফুতাইস আল-আন্দালুসী রহিমাহুল্লাহ[৩৩]

المَبْحَثُ الثَّالِثُ: مَعْرِفَةُ الإِخْوَةِ وَالأَخَوَاتِ

তৃতীয় মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): রাবীদের মধ্যে ভাই ও বোনদের পরিচিতি

সূচনা

تَوْطِئَةٌ

এই ইলম মুহাদ্দিসগণের অন্যতম বিশেষ জ্ঞান যা নিয়ে তাঁরা বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এটি হলো প্রতিটি তবকার রাবীদের মধ্যে কারা পরস্পর ভাই বা বোন তা চেনা।

এই বিষয়কে পৃথকভাবে গবেষণা ও সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা মুহাদ্দিসগণের রাবীদের প্রতি গভীর মনোযোগের প্রমাণ বহন করে; তাঁরা রাবীদের বংশ, ভাই-বোন এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয় পর্যন্ত যত্নের সাথে জেনেছেন; যেমনটা পরবর্তী মাবহাসগুলোতেও আসবে।


এর ফায়দা

مِنْ فَوَائِدِهِ

এর একটি ফায়দা হলো: পিতার নামে মিল থাকলে যে ব্যক্তি ভাই নয় তাঁকে ভাই মনে করার ভুল থেকে রক্ষা পাওয়া।

উদাহরণ

“‘আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার” এবং “‘আমর ইবনু দীনার”। যে ব্যক্তি এই বিষয়ে জানেন না, তিনি মনে করতে পারেন এঁরা দুজন ভাই। অথচ তাঁরা পরস্পর ভাই নন; যদিও তাঁদের পিতার নাম একই (দীনার)।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَةٌ
রাবীদের মধ্যে ভাই-বোনের উদাহরণ (২ থেকে ৭ জন পর্যন্ত)
দুই ভাইয়ের উদাহরণ (সাহাবীদের মধ্যে)
‘উমার ও যাইদ, তাঁরা দুজন খাত্তাবের পুত্র।
তিন ভাইয়ের উদাহরণ (সাহাবীদের মধ্যে)
‘আলী, জা’ফর ও ‘আকীল, তাঁরা তিনজন আবূ তালিবের পুত্র। রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম।
চার ভাইয়ের উদাহরণ (তাবি’ তাবি’ঈনদের মধ্যে)
সুহাইল, ‘আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ ও সালিহ, তাঁরা চারজন আবী সালিহের পুত্র।
পাঁচ ভাইয়ের উদাহরণ (তাবি’ তাবি’ঈনদের মধ্যে)
সুফিয়ান, আদাম, ‘ইমরান, মুহাম্মাদ ও ইবরাহীম, তাঁরা পাঁচজন ‘উয়াইনাহর পুত্র।
ছয় ভাই-বোনের উদাহরণ (তাবি’ঈনদের মধ্যে)
মুহাম্মাদ, আনাস, ইয়াহইয়া, মা’বাদ, হাফসাহ ও কারীমাহ, তাঁরা ছয়জন সীরীনের সন্তান। (উল্লেখ্য, হাফসাহ বিনতু সীরীন পূর্বোক্ত তাবি’ঈ মহিলাদের নেত্রী।)
সাত ভাইয়ের উদাহরণ (সাহাবীদের মধ্যে)
আন-নু’মান, মা’কিল, ‘আকীল, সুওয়াইদ, সিনান, ‘আব্দুর রহমান ও ‘আব্দুল্লাহ; তাঁরা সাতজন মুকাররিনের পুত্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম।
সাত মুকাররিন ভাইয়ের বিশেষত্ব

এই সাতজন সাহাবী ভাই সবাই মুহাজির ছিলেন; এই সম্মানে অন্য কেউ তাঁদের সাথে অংশীদার হননি[৩৪]। কেউ কেউ বলেছেন, তাঁরা সাতজনই খন্দকের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন।


এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

কিতাবুল ইখওয়াহ (كِتَابُ الإِخْوَةِ)

আবুল মুতাররিফ ইবনু ফুতাইস আল-আন্দালুসী রহিমাহুল্লাহ

কিতাবুল ইখওয়াহ (كِتَابُ الإِخْوَةِ)

আবুল ‘আব্বাস আস-সাররাজ রহিমাহুল্লাহ[৩৫]

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৩১] ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ ফুকাহাউস সাব’আহর তালিকায় আবূ সালামাহর স্থানে সালিম ইবনু ‘আব্দিল্লাহ ইবনু ‘উমারকে রেখেছেন। আবূয যিনাদ রহিমাহুল্লাহ এই দুইজনের (সালিম ও আবূ সালামাহ) স্থানে আবূ বকর ইবনু ‘আব্দির রহমানকে রেখেছেন।

[৩২] এখানে উম্মুদ দারদা বলতে উম্মুদ দারদা আস-সুগরা (ছোট উম্মুদ দারদা), যাঁর নাম হুজাইমাহ (কেউ বলেন জুহাইমাহ)। তিনি আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর স্ত্রী। উম্মুদ দারদা আল-কুবরা (বড় উম্মুদ দারদা) ও আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর স্ত্রী ছিলেন; তাঁর নাম খাইরাহ, তবে তিনি সাহাবিয়্যাহ ছিলেন।

Also Read:  দ্বিতীয় অধ্যায়: রাবীর বৈশিষ্ট্য ও জারহ-তা'দীল | তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস

[৩৩] দ্রষ্টব্য: আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (الرِّسَالَةُ المُسْتَطْرَفَةُ), পৃষ্ঠা ১০৫।

[৩৪] অর্থাৎ সাহাবীদের মধ্যে এমন সাত ভাই আর পাওয়া যায় না, যাঁরা সবাই মুহাজির।

[৩৫] “আস-সাররাজ” উপাধিটি এসেছে “সারজ” (জিনবানানো) পেশা থেকে; তাঁর কোনো পূর্বপুরুষ এই কাজ করতেন। তিনি হলেন আবুল ‘আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আস-সাকাফী (মাওলা); নায়সাবূরে তাঁর যুগের মুহাদ্দিস। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩১৩ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন।

المَبْحَثُ الرَّابِعُ: مَعْرِفَةُ المُتَّفِقِ وَالمُفْتَرِقِ

চতুর্থ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আল-মুত্তাফিক ও আল-মুফতারিকের পরিচিতি

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

ক. ভাষাগত অর্থে: المُتَّفِق আল-মুত্তাফিক হলো ইসমু ফা’ইল, যা الاِتِّفَاق (আল-ইত্তিফাক; ঐকমত্য / মিল) থেকে। আর المُفْتَرِق আল-মুফতারিক হলো ইসমু ফা’ইল, যা الاِفْتِرَاق (আল-ইফতিরাক; বিভেদ) থেকে; যা ইত্তিফাকের বিপরীত।

খ. পারিভাষিক অর্থে: রাবীদের নাম, পিতার নাম এবং তদূর্ধ্ব (যেমন দাদা, প্রপিতামহ ইত্যাদি) লেখা ও উচ্চারণে অভিন্ন হওয়া; কিন্তু তাঁরা পরস্পর ভিন্ন ব্যক্তি[৩৬]। এর অন্তর্ভুক্ত হলো নাম ও কুনিয়াত একই হওয়া, অথবা নাম ও নিসবাত একই হওয়া ইত্যাদি[৩৭]

অনুবাদকের কথা

সহজ কথায়, আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক হলো এমন পরিস্থিতি যেখানে দুই বা ততোধিক ভিন্ন ব্যক্তির নাম ও বংশ পরিচয় দেখতে এবং শুনতে একই রকম মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে তাঁরা আলাদা ব্যক্তি। যেমন আপনি যদি দেখেন “মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ” নামে কোনো রাবী, তখন মনে রাখতে হবে এই নামের একাধিক ভিন্ন ব্যক্তি থাকতে পারেন।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَةٌ
উদাহরণ ১: আল-খলীল ইবনু আহমাদ

“আল-খলীল ইবনু আহমাদ” এই নামে ছয়জন ভিন্ন ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের প্রথমজন হলেন সীবাওয়াইহির শায়খ (বিখ্যাত আরবী ভাষাবিদ আল-খলীল ইবনু আহমাদ আল-ফারাহীদী)।

উদাহরণ ২: আহমাদ ইবনু জা’ফর ইবনু হামদান

এই নামে একই যুগে চারজন ভিন্ন ব্যক্তি ছিলেন।

উদাহরণ ৩: ‘উমার ইবনুল খাত্তাব

এই নামে ছয়জন ভিন্ন ব্যক্তি রয়েছেন[৩৮]


গুরুত্ব ও ফায়দা

أَهَمِّيَّتُهُ وَفَائِدَتُهُ
বিশেষ গুরুত্ব

এই প্রকার চেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে অনেক বড় বড় আলিমও পদস্খলনের শিকার হয়েছেন।

এর ফায়দাসমূহ:

ক. নামে অভিন্ন ব্যক্তিদের একজন ব্যক্তি বলে মনে করা থেকে রক্ষা; অথচ তাঁরা একদল ভিন্ন ব্যক্তি।

অনুবাদকের কথা

এটি المُهْمَل আল-মুহমাল এর বিপরীত। মুহমালে আশঙ্কা থাকে যে, একজন ব্যক্তিকে দুইজন ভেবে নেওয়া হবে। আর মুত্তাফিক ও মুফতারিকে আশঙ্কা থাকে যে, ভিন্ন একদল ব্যক্তিকে একজন ব্যক্তি ভেবে নেওয়া হবে[৩৯]

খ. নামে অভিন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা। কারণ হতে পারে একজন সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) আর অন্যজন দ’ঈফ (দুর্বল)। ফলে যা সহীহ তা দুর্বল গণ্য হতে পারে, অথবা এর বিপরীত ঘটতে পারে।


কোন পরিস্থিতিতে এই উদাহরণসমূহ উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ?

مَتٰى يَحْسُنُ إِيْرَادُهُ؟

উদাহরণ উল্লেখ করা তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয় যখন:

১. দুই বা ততোধিক রাবী নামে অভিন্ন হন।
২. তাঁরা একই যুগের ব্যক্তি হন।
৩. তাঁদের কিছু শায়খ অথবা ছাত্র অভিন্ন হন।

কিন্তু যদি তাঁরা বিভিন্ন যুগের হন, তাহলে তাঁদের নামের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় না।


এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক (المُتَّفِقُ وَالمُفْتَرِقُ)

খতীব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ
এটি একটি বিশাল ও মূল্যবান গ্রন্থ[৪০]

আল-আনসাবুল মুত্তাফিকাহ (الأَنْسَابُ المُتَّفِقَةُ)

হাফিয মুহাম্মাদ ইবনু তাহির রহিমাহুল্লাহ (ইন্তিকাল ৫০৭ হিজরী)
এটি মুত্তাফিকের একটি বিশেষ প্রকারের জন্য রচিত।

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৩৬] নুখবাতুল ফিকর (نُخْبَةُ الفِكَرِ) এবং তার শারহ, পৃষ্ঠা ৬৮।

[৩৭] শুধু নামের ক্ষেত্রে মিল থাকার বিষয়টি কম এবং বিরল জটিলতা সৃষ্টি করে। সংজ্ঞা সাধারণত সেই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি, যা প্রকৃত সমস্যার উৎস। বিস্তৃত গ্রন্থে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি মুহমাল প্রকারের নিকটবর্তী।

[৩৮] এটি খতীব আল-বাগদাদীর “আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক” গ্রন্থে দেখা সবচেয়ে বিস্ময়কর উদাহরণ। এই কিতাবে নামে অভিন্ন রাবীদের সর্বোচ্চ সংখ্যা পৌঁছেছে সতেরো জন পর্যন্ত।

[৩৯] দ্রষ্টব্য: শারহুন নুখবাহ (شَرْحُ النُّخْبَةِ), পৃষ্ঠা ৬৮।

[৪০] এই গ্রন্থের একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি ইস্তানবুলে আসআদ আফেন্দি লাইব্রেরিতে (নং ২০৯৭) ২৩৯ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে; যা দশম জুযের শুরু থেকে অষ্টাদশ জুযের শেষ পর্যন্ত (যা গ্রন্থের শেষ অংশ)। এর আরেকটি অংশ শায়খ ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হুমাইদের কাছে রয়েছে; যা তৃতীয় জুযের শুরু থেকে নবম জুযের শেষ পর্যন্ত। এই গ্রন্থের তাহকীক করেছেন আমাদের ভাই ড. মুহাম্মাদ সাদিক আইদিন; যে তাহকীকের মাধ্যমে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

المَبْحَثُ الخَامِسُ: مَعْرِفَةُ المُؤْتَلِفِ وَالمُخْتَلِفِ

পঞ্চম মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আল-মু’তালিফ ও আল-মুখতালিফের পরিচিতি

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

ক. ভাষাগত অর্থে: المُؤْتَلِف আল-মু’তালিফ হলো ইসমু ফা’ইল, যা الاِئْتِلَاف (আল-ই’তিলাফ; একত্রিত হওয়া ও মিলিত হওয়া) থেকে; যা বিচ্ছিন্নতার বিপরীত। আর المُخْتَلِف আল-মুখতালিফ হলো ইসমু ফা’ইল, যা الاِخْتِلَاف (আল-ইখতিলাফ; ভিন্নতা) থেকে; যা ইত্তিফাকের বিপরীত।

খ. পারিভাষিক অর্থে: রাবীদের নাম, লকব (উপাধি), কুনিয়াত অথবা নিসবাত লেখায় অভিন্ন হওয়া, কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন হওয়া[৪১]

অনুবাদকের কথা

আরবী লেখায় হারাকাত (যেমন ফাতহা, কাসরা, দম্মা), শাদ্দা ও নুকতা (বিন্দু) সাধারণত লেখা হয় না। ফলে দুটি ভিন্ন উচ্চারণের শব্দ লিখিত আকারে একই দেখাতে পারে। মু’তালিফ ও মুখতালিফ হলো এমন পরিস্থিতি যেখানে দুজন রাবীর নাম কাগজে দেখতে একই, কিন্তু উচ্চারণ আলাদা। অভিজ্ঞ মুহাদ্দিস ছাড়া অন্যরা এই পার্থক্য ধরতে পারেন না।

মুত্তাফিক ও মুফতারিকের সাথে এর পার্থক্য: মুত্তাফিকে নাম লেখায় ও উচ্চারণে উভয়ই অভিন্ন (কিন্তু ব্যক্তি ভিন্ন); আর মু’তালিফে নাম শুধু লেখায় অভিন্ন (উচ্চারণ ভিন্ন)।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَتُهُ
উদাহরণ ১: সালাম ও সাল্লাম

سَلَام এবং سَلَّام

প্রথমটি লামের তাশদীদ ছাড়া (সালাম); দ্বিতীয়টি লামের তাশদীদসহ (সাল্লাম)।

উদাহরণ ২: মিসওয়ার ও মুসাওয়ার

مِسْوَر এবং مُسَوَّر

প্রথমটি মীমে কাসরা, সীনে সুকূন, ওয়াও তাশদীদ ছাড়া (মিসওয়ার); দ্বিতীয়টি মীমে দম্মা, সীনে ফাতহা, ওয়াও তাশদীদসহ (মুসাওয়ার)।

উদাহরণ ৩: আল-বাররায ও আল-বায্‌যার

البَرَّاز এবং البَزَّار

প্রথমটির শেষে যা (বাররায); দ্বিতীয়টির শেষে রা (বায্‌যার)।

উদাহরণ ৪: আস-সাওরী ও আত-তাওযী

الثَّوْرِي এবং التَّوَّزِي

প্রথমটি সা ও রা সহ (সাওরী); দ্বিতীয়টি তা ও যা সহ (তাওযী)।


এর কি কোনো নিয়ম (দাবিত) আছে?

هَلْ لَهُ ضَابِطٌ؟
অধিকাংশের ক্ষেত্রে

কোনো নিয়ম নেই

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনো নিয়ম নেই; কারণ এর বিস্তৃতি বিশাল। প্রতিটি নাম পৃথকভাবে মুখস্থ করার মাধ্যমেই তা সংরক্ষণ করতে হয়।

কিছু ক্ষেত্রে

নিয়ম রয়েছে

কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম পাওয়া যায়; এগুলো দুই প্রকার (নিচে দেখুন)।

যেসব ক্ষেত্রে নিয়ম রয়েছে, সেগুলোর দুই প্রকার:

১. নির্দিষ্ট কিতাব বা কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে নিয়ম:

যেমন আমরা বলতে পারি: সহীহাইন (সহীহুল বুখারী ও সহীহু মুসলিম) এবং মুওয়াত্তা মালিকে যেখানেই يَسَار (ইয়াসার) এসেছে, তা মুসান্নাত (দুই বিন্দুসহ ইয়া) এবং মুহমালা (বিন্দুহীন সীন) সহ; কেবল মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ব্যতীত, যা মুওয়াহহাদাহ (এক বিন্দুসহ বা) ও মু’জামাহ (বিন্দুসহ শীন) সহ।
২. সাধারণভাবে নিয়ম:

অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের সাথে সম্পর্কিত নয়। যেমন আমরা বলতে পারি: سَلَّام (সাল্লাম) সবসময় লামের তাশদীদসহ; পাঁচজন ব্যতীত। তারপর সেই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা।

গুরুত্ব ও ফায়দা

أَهَمِّيَّتُهُ وَفَائِدَتُهُ

এই প্রকার চেনা ইলমুর রিজালের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। ‘আলী ইবনুল মাদীনী রহিমাহুল্লাহ পর্যন্ত বলেছেন:

أَشَدُّ التَّصْحِيْفِ مَا يَقَعُ فِي الأَسْمَاءِ

“সবচেয়ে কঠিন তাসহীফ (পাঠবিকৃতি) হলো যা নামের ক্ষেত্রে ঘটে।”

কারণ এটি এমন একটি বিষয় যেখানে কিয়াস (অনুমান) প্রয়োগ করা যায় না; এর আগে বা পরে এমন কোনো ইঙ্গিতও থাকে না যা এর সঠিক উচ্চারণ নির্দেশ করতে পারে[৪২]

এর ফায়দা নিহিত রয়েছে ভুল এড়ানো এবং তাতে পতিত না হওয়ার মধ্যে।


এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ (المُؤْتَلِفُ وَالمُخْتَلِفُ)

‘আব্দুল গনী ইবনু সা’ঈদ রহিমাহুল্লাহ

আল-ইকমাল (الإِكْمَالُ)

ইবনু মাকূলা রহিমাহুল্লাহ
এর পরিপূরক (যাইল) রচনা করেছেন আবূ বকর ইবনু নুকতাহ রহিমাহুল্লাহ।

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৪১] এই উচ্চারণগত পার্থক্যের উৎস নুকতা (বিন্দু) হোক বা শাকল (হারাকাত) হোক। দ্রষ্টব্য: আত-তাকরীব মা’আত তাদরীব (التَّقْرِيْبُ مَعَ التَّدْرِيْبِ): ২/২৯৭।

[৪২] দ্রষ্টব্য: নুখবাতুল ফিকর (نُخْبَةُ الفِكَرِ), পৃষ্ঠা ৬৮।

المَبْحَثُ السَّادِسُ: مَعْرِفَةُ المُتَشَابِهِ

ষষ্ঠ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আল-মুতাশাবিহের পরিচিতি[৪৩]

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

ক. ভাষাগত অর্থে: المُتَشَابِه আল-মুতাশাবিহ হলো ইসমু ফা’ইল, যা التَّشَابُه (আত-তাশাবুহ; সাদৃশ্য) থেকে। এখানে “মুতাশাবিহ” বলতে “মুলতাবিস” (বিভ্রান্তিকর) বোঝানো হয়েছে। এ থেকেই কুরআনের “মুতাশাবিহ” শব্দটি এসেছে; অর্থাৎ যে আয়াতের অর্থে অস্পষ্টতা রয়েছে।

খ. পারিভাষিক অর্থে: রাবীদের নাম উচ্চারণে ও লেখায় অভিন্ন হওয়া, কিন্তু পিতাদের নাম উচ্চারণে ভিন্ন, লেখায় নয়; অথবা এর বিপরীত[৪৪]

অনুবাদকের কথা

আল-মুতাশাবিহ আসলে আগের দুই মাবহাসের (মুত্তাফিক ও মু’তালিফ) সংমিশ্রণ। এখানে রাবীর নিজের নাম এক রকমের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, আর পিতার নাম অন্য রকমের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। অর্থাৎ এক জায়গায় নাম মুত্তাফিকের মতো অভিন্ন, অন্য জায়গায় মু’তালিফের মতো শুধু লেখায় অভিন্ন।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَتُهُ
উদাহরণ ১: রাবীদের নাম অভিন্ন, পিতাদের নাম ভিন্ন উচ্চারণে

مُحَمَّد بن عُقَيْل (‘আইনে দম্মাসহ; মুহাম্মাদ ইবনু ‘উকাইল) এবং مُحَمَّد بن عَقِيْل (‘আইনে ফাতহাসহ; মুহাম্মাদ ইবনু ‘আকীল)।

রাবীদের নাম (মুহাম্মাদ) অভিন্ন, পিতাদের নাম উচ্চারণে ভিন্ন।

উদাহরণ ২: পিতাদের নাম অভিন্ন, রাবীদের নাম ভিন্ন উচ্চারণে

شُرَيْح بن النُّعْمَان (শুরাইহ ইবনুন নু’মান) এবং سُرَيْج بن النُّعْمَان (সুরাইজ ইবনুন নু’মান)।

রাবীদের নাম উচ্চারণে ভিন্ন, পিতাদের নাম (নু’মান) অভিন্ন।


এর ফায়দা

فَائِدَتُهُ

এর ফায়দা নিহিত রয়েছে রাবীদের নাম সঠিকভাবে দবত করা, তাদের উচ্চারণে বিভ্রান্তি এড়ানো এবং তাসহীফ ও ওয়াহমে (ভুল ধারণায়) পতিত না হওয়ার মধ্যে।


আল-মুতাশাবিহের অন্যান্য প্রকার

أَنْوَاعٌ أُخْرٰى مِنَ المُتَشَابِهِ

আল-মুতাশাবিহের আরো কিছু প্রকার রয়েছে। নিচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো উল্লেখ করা হচ্ছে:

ক. নাম ও পিতার নামে সম্পূর্ণ মিল; শুধু এক বা দুই অক্ষরে পার্থক্য:

مُحَمَّد بن حُنَيْن (মুহাম্মাদ ইবনু হুনাইন) এবং مُحَمَّد بن جُبَيْر (মুহাম্মাদ ইবনু জুবাইর)।

খ. নাম ও পিতার নাম লেখা ও উচ্চারণে অভিন্ন, কিন্তু ক্রমে পার্থক্য (আগ-পাছ):

এটি দুই ধরনের হতে পারে:

১. পুরো নামের ক্রমে পরিবর্তন:

الأَسْوَد بن يَزِيْد (আল-আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ) এবং يَزِيْد بن الأَسْوَد (ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ)।

অর্থাৎ একই দুটি নাম, কিন্তু পিতা ও পুত্রের অবস্থান উল্টানো[৪৫]

২. কিছু অক্ষরের ক্রমে পরিবর্তন:

أَيُّوب بن سَيَّار (আইয়ূব ইবনু সাইয়ার) এবং أَيُّوب بن يَسَار (আইয়ূব ইবনু ইয়াসার)।


এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

তালখীসুল মুতাশাবিহ ফির রাসম ওয়া হিমায়াতু মা আশকালা মিনহু ‘আন বাওয়াদিরিত তাসহীফি ওয়াল ওয়াহমি (تَلْخِيْصُ المُتَشَابِهِ فِيْ الرَّسْمِ وَحِمَايَةُ مَا أَشْكَلَ مِنْهُ عَنْ بَوَادِرِ التَّصْحِيْفِ وَالوَهْمِ)

খতীব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ

তালিউত তালখীস (تَالِيْ التَّلْخِيْصِ)

খতীব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ
এটি পূর্বোক্ত কিতাবের পরিপূরক (তাতিম্মাহ/যাইল)। উভয়ই মূল্যবান গ্রন্থ; এই বিষয়ে এর সমকক্ষ কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি[৪৬]

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৪৩] আল-মুতাশাবিহ মূলত আগের দুই প্রকারের সমন্বয়ে গঠিত; অর্থাৎ “আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক” এবং “আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ”। দ্রষ্টব্য: ‘উলূমুল হাদীস (عُلُوْمُ الحَدِيْثِ), পৃষ্ঠা ৩৬৫।

[৪৪] অর্থাৎ যেমন রাবীদের নাম উচ্চারণে ভিন্ন হয়, কিন্তু পিতাদের নাম লেখা ও উচ্চারণ উভয়েই অভিন্ন।

[৪৫] কেউ কেউ এই প্রকারকে المُشْتَبَه المَقْلُوْب আল-মুশতাবাহ আল-মাকলূব বলেন। এই ধরনের বিভ্রান্তি লেখায় নয় বরং মনের মধ্যে ঘটে। কখনো কখনো কোনো রাবীর নাম এভাবে উল্টে যায়। খতীব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ এই বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যার নাম “রাফি’উল ইরতিয়াব ফিল মাকলূব মিনাল আসমাই ওয়াল আনসাব” (رَافِعُ الاِرْتِيَابِ فِيْ المَقْلُوْبِ مِنَ الأَسْمَاءِ وَالأَنْسَابِ)।

[৪৬] এই দুটি গ্রন্থের সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যায় রয়েছে। লেখকের কাছে এর একটি কপি আছে।

المَبْحَثُ السَّابِعُ: مَعْرِفَةُ المُهْمَلِ

সপ্তম মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আল-মুহমালের পরিচিতি

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

ক. ভাষাগত অর্থে: المُهْمَل আল-মুহমাল হলো ইসমু মাফ’ঊল, যা الإِهْمَال (আল-ইহমাল; বর্জন) থেকে। যেন রাবী এমন নাম উল্লেখ করেছেন যা অন্যদের থেকে পার্থক্যকারী কিছু ছাড়াই।

খ. পারিভাষিক অর্থে: রাবী এমন দুইজন ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করেন যাঁরা শুধু নামে, অথবা নাম ও পিতার নামে (বা অনুরূপ) অভিন্ন; এবং তাঁদেরকে আলাদা করার মতো কোনো বিশেষণ উল্লেখ করা হয়নি।


কখন ইহমাল ক্ষতিকর?

مَتٰى يَضُرُّ الإِهْمَالُ؟
ক্ষতিকর পরিস্থিতি

যদি দুইজনের একজন সিকাহ ও অন্যজন দ’ঈফ হন; কারণ আমরা জানি না এখানে কার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে। হতে পারে দুর্বল ব্যক্তিই; ফলে হাদীস দুর্বল হয়ে যাবে।

ক্ষতিকর নয়

যদি উভয়েই সিকাহ হন, তাহলে ইহমাল হাদীসের সিহহার ক্ষতি করে না; কারণ যাঁর থেকেই বর্ণনা হোক না কেন, হাদীস সহীহ।


উদাহরণ

مِثَالُهُ
উভয়ে সিকাহ হলে

ইমাম বুখারীর একটি বর্ণনা যেখানে তিনি “আহমাদ” (নিসবাত ছাড়া) থেকে, তিনি ইবনু ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেন। এই “আহমাদ” হয় আহমাদ ইবনু সালিহ, অথবা আহমাদ ইবনু ‘ঈসা; উভয়েই সিকাহ।

একজন সিকাহ, অন্যজন দ’ঈফ হলে

“সুলাইমান ইবনু দাউদ” ও “সুলাইমান ইবনু দাউদ”। যদি তিনি “আল-খাওলানী” হন, তবে সিকাহ; আর যদি “আল-ইয়ামামী” হন, তবে দ’ঈফ।


আল-মুহমাল ও আল-মুবহামের পার্থক্য

الفَرْقُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ المُبْهَمِ
আল-মুহমাল

নাম উল্লিখিত, কিন্তু অস্পষ্ট

নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু কোন ব্যক্তি সেটা নির্ণয় করা কঠিন।

আল-মুবহাম

নাম উল্লেখই করা হয়নি

রাবীর নামটাই উল্লেখ করা হয়নি।


প্রসিদ্ধ গ্রন্থ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-মুকমিল ফী বায়ানিল মুহমাল (المُكْمِلُ فِيْ بَيَانِ المُهْمَلِ)

খতীব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ

المَبْحَثُ الثَّامِنُ: مَعْرِفَةُ المُبْهَمَاتِ

অষ্টম মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আল-মুবহামাতের পরিচিতি

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

ক. ভাষাগত অর্থে: المُبْهَمَات আল-মুবহামাত হলো مُبْهَم (মুবহাম) এর বহুবচন। মুবহাম হলো ইসমু মাফ’ঊল, যা الإِبْهَام (আল-ইবহাম; অস্পষ্টতা) থেকে; যা ইদাহ (স্পষ্টতা) এর বিপরীত।

খ. পারিভাষিক অর্থে: যাঁর নাম হাদীসের মতনে বা সনদে উল্লেখ করা হয়নি; রাবীদের মধ্যে থেকে হোক বা রিওয়ায়াতের সাথে সম্পর্কিত অন্য কেউ[৪৭]


এর ফায়দাসমূহ

مِنْ فَوَائِدِهِ

ক. সনদে ইবহাম হলে: এর মাধ্যমে রাবী সিকাহ নাকি দ’ঈফ তা জানা যায়; হাদীসকে সহীহ বা দ’ঈফ বলার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

খ. মতনে ইবহাম হলে: এর অনেক ফায়দা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘটনার মূল ব্যক্তি বা প্রশ্নকারীকে চেনা। যদি হাদীসে তাঁর জন্য কোনো ফযীলত থাকে, তাহলে তাঁর মর্যাদা জানা যায়। আর যদি এর বিপরীত হয়, তাহলে তাঁকে চেনার মাধ্যমে অন্য কোনো সাহাবী সম্পর্কে ভুল ধারণা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


মুবহাম কীভাবে জানা যায়?

كَيْفَ يُعْرَفُ المُبْهَمُ؟

দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটির মাধ্যমে:

ক. অন্য কোনো রিওয়ায়াতে নামটি স্পষ্টভাবে উল্লেখিত থাকার মাধ্যমে।
খ. সীরাহ বিশারদগণের বক্তব্যের মাধ্যমে; যাঁরা অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

প্রকারভেদ

أَقْسَامُهُ

ইবহামের তীব্রতা অনুসারে মুবহামকে চার প্রকারে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে তীব্র থেকে শুরু করা হলো:

মুবহামের চার প্রকার (তীব্রতা অনুসারে)
“রজুল” (পুরুষ) বা “ইমরা’আহ” (মহিলা)
যেমন: ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীস; “একজন ব্যক্তি (রজুল) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, হজ্জ কি প্রতি বছর?” এই ব্যক্তি হলেন আল-আকরা’ ইবনু হাবিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু[৪৮]
পুত্র ও কন্যা (ভাই, বোন, ভাইপো, ভাইঝি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত)
যেমন: উম্মু ‘আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীস নবী ﷺ-এর “কন্যাকে” বরই পাতা ও পানি দিয়ে গোসল দেওয়া প্রসঙ্গে। এই কন্যা হলেন যাইনাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা।
চাচা ও ফুফু (মামা, খালা, চাচাতো/ফুফাতো/মামাতো/খালাতো ভাই-বোন অন্তর্ভুক্ত)
রাফি’ ইবনু খাদীজের হাদীস তাঁর “চাচা” থেকে মুখাবারা (এক প্রকার কৃষি চুক্তি) নিষেধ প্রসঙ্গে; এই চাচার নাম যুহাইর ইবনু রাফি’। জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর “ফুফুর” হাদীস যিনি উহুদের দিন তাঁর পিতার শাহাদাতে কেঁদেছিলেন; এই ফুফুর নাম ফাতিমাহ বিনতু ‘আমর।
Also Read:  তৃতীয় অধ্যায়: রিওয়ায়াত (বর্ণনা), তার আদব ও সংরক্ষণ পদ্ধতি | তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস
স্বামী ও স্ত্রী
সহীহাইনের হাদীস সুবাই’আর “স্বামীর” মৃত্যু প্রসঙ্গে; তাঁর স্বামীর নাম সা’দ ইবনু খাওলাহ। আর ‘আব্দুর রহমান ইবনুয যুবাইরের “স্ত্রীর” হাদীস; যিনি পূর্বে রিফা’আহ আল-কুরযীর স্ত্রী ছিলেন, পরে তিনি তাঁকে তালাক দেন; তাঁর নাম তামীমাহ বিনতু ওয়াহব।

প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

এই বিষয়ে ‘আব্দুল গনী ইবনু সা’ঈদ, খতীব আল-বাগদাদী ও ইমাম নববী রহিমাহুমুল্লাহ সহ একাধিক আলিম সংকলন করেছেন। এদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বাধিক সংগ্রহশালা হলো:

আল-মুসতাফাদ মিন মুহিম্মাতিল মতনি ওয়াল ইসনাদ (المُسْتَفَادُ مِنْ مُهِمَّاتِ المَتْنِ وَالإِسْنَادِ)

ওয়ালিউদ্দীন আল-‘ইরাকী রহিমাহুল্লাহ

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৪৭] দ্রষ্টব্য: ‘উলূমুল হাদীস (عُلُوْمُ الحَدِيْثِ), পৃষ্ঠা ৩৭৫।

[৪৮] দ্রষ্টব্য: ‘উলূমুল হাদীস (عُلُوْمُ الحَدِيْثِ), পৃষ্ঠা ৩১৯।

المَبْحَثُ التَّاسِعُ: مَعْرِفَةُ الوُحْدَانِ

নবম মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আল-উহদানের পরিচিতি

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

ক. ভাষাগত অর্থে: الوُحْدَان আল-উহদান (ওয়াওয়ে দম্মাসহ) হলো وَاحِد (ওয়াহিদ; একক) এর বহুবচন।

খ. পারিভাষিক অর্থে: সেই সকল রাবী, যাঁদের প্রত্যেকের থেকে শুধুমাত্র একজনই বর্ণনা করেছেন[৪৯]


ফায়দা

فَائِدَتُهُ

مَجْهُوْل العَيْن মাজহূলুল ‘আইনসত্তায় অজ্ঞাত চেনা এবং তাঁর বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা; যদি তিনি সাহাবী না হন।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَتُهُ
সাহাবীদের মধ্যে

‘উরওয়াহ ইবনু মুদাররিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; তাঁর থেকে একমাত্র আশ-শা’বী ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি।

আল-মুসাইয়াব ইবনু হাযন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; তাঁর থেকে একমাত্র তাঁর পুত্র সা’ঈদ (ইবনুল মুসাইয়াব) ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি।

তাবি’ঈনদের মধ্যে

আবুল ‘উশারা; তাঁর থেকে একমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি।


সহীহাইনে কি উহদানের বর্ণনা আছে?

هَلْ أَخْرَجَ الشَّيْخَانِ فِيْ صَحِيْحَيْهِمَا عَنِ الوُحْدَانِ؟
ইমাম হাকিমের মত

নেই

হাকিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর “আল-মাদখাল” (المَدْخَل) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) উহদানের থেকে কোনো বর্ণনা আনেননি।

জমহূরের মত

আছে

জমহূর মুহাদ্দিসগণ বলেছেন: সহীহাইনে সাহাবীদের মধ্যে উহদান থেকে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে।

জমহূরের দাবির প্রমাণস্বরূপ কিছু উদাহরণ:

১. আল-মুসাইয়াবের হাদীস আবূ তালিবের মৃত্যু সম্পর্কে; যা শাইখাইন বর্ণনা করেছেন।
২. কাইস ইবনু আবী হাযিম মিরদাস আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস: يَذْهَبُ الصَّالِحُوْنَ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ (“সৎকর্মশীলগণ একে একে চলে যাবেন”)। মিরদাস থেকে কাইস ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি; এবং হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।

প্রসিদ্ধ গ্রন্থ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-মুনফারিদাত ওয়াল উহদান (المُنْفَرِدَاتُ وَالوُحْدَانُ)

ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ

المَبْحَثُ العَاشِرُ: مَعْرِفَةُ مَنْ ذُكِرَ بِأَسْمَاءٍ أَوْ صِفَاتٍ مُخْتَلِفَةٍ

দশম মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): যাঁদেরকে ভিন্ন নাম বা বিশেষণে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের পরিচিতি

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

এটি হলো এমন রাবী যাঁকে একজন ব্যক্তি অথবা একদল ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন নাম, লকব (উপাধি) অথবা কুনিয়াতে উল্লেখ করেছেন।


উদাহরণ

مِثَالُهُ
মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব আল-কালবী

কেউ তাঁকে “আবুন নাদর” নামে উল্লেখ করেছেন; কেউ “হাম্মাদ ইবনুস সাইব” বলেছেন; কেউ আবার “আবূ সা’ঈদ” বলেছেন। অথচ ইনি একই ব্যক্তি।


এর ফায়দাসমূহ

مِنْ فَوَائِدِهِ

ক. একই ব্যক্তির নামে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া এবং তাঁকে একাধিক ব্যক্তি বলে মনে না করা।

খ. تَدْلِيْسُ الشُّيُوْخِ তাদলীসুশ শুয়ূখশায়খদের তাদলীস উন্মোচিত করা।


খতীব আল-বাগদাদীর তাঁর শায়খদের ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার

اِسْتِعْمَالُ الخَطِيْبِ كَثِيْرًا مِنْ ذٰلِكَ فِيْ شُيُوْخِهِ

খতীব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ তাঁর কিতাবসমূহে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন: কখনো “আবুল কাসিম আল-আযহারী” থেকে, কখনো “‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আবিল ফাতহ আল-ফারিসী” থেকে, আবার কখনো “‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু ‘উসমান আস-সাইরাফী” থেকে। অথচ এই তিনটি নামই একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করে।


প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

ঈদাহুল ইশকাল (إِيْضَاحُ الإِشْكَالِ)

হাফিয ‘আব্দুল গনী ইবনু সা’ঈদ রহিমাহুল্লাহ

মুদিহু আওহামিল জাম’ই ওয়াত তাফরীক (مُوَضِّحُ أَوْهَامِ الجَمْعِ وَالتَّفْرِيْقِ)

খতীব আল-বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৪৯] দ্রষ্টব্য: ‘উলূমুল হাদীস (عُلُوْمُ الحَدِيْثِ), পৃষ্ঠা ৩২৩; এবং আত-তাকরীব মা’আত তাদরীব (التَّقْرِيْبُ مَعَ التَّدْرِيْبِ): ২/২৬৮।

المَبْحَثُ الحَادِيْ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ المُفْرَدَاتِ مِنَ الأَسْمَاءِ وَالكُنٰى وَالأَلْقَابِ

একাদশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): নাম, কুনিয়াত ও লকবের মধ্যে অনন্য (মুফরাদাত) গুলোর পরিচিতি

মুফরাদাত বলতে কী বোঝানো হয়

المُرَادُ بِالمُفْرَدَاتِ

সাহাবী, সাধারণ রাবী বা আলিমদের কারো এমন নাম, কুনিয়াত বা লকব থাকা যা অন্য কোনো রাবী বা আলিমের সাথে মিলে না। المُفْرَدَات আল-মুফরাদাত অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদ্ভুত ধরনের নাম হয়ে থাকে যা উচ্চারণ করা কঠিন।


এর ফায়দা

فَائِدَةُ مَعْرِفَتِهِ

এই ধরনের অনন্য ও অদ্ভুত নামসমূহে তাসহীফ ও তাহরীফে পতিত না হওয়া।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَتُهُ

ক. নামসমূহ:

সাহাবীদের মধ্যে: “আজমাদ ইবনু ‘উজাইয়ান” (সুফিয়ান অথবা ‘আলইয়ান এর ওযনে), এবং “সন্দার” (জা’ফরের ওযনে)।
সাহাবী ব্যতীত অন্যদের মধ্যে: “আওসাত” ইবনু ‘আমর, এবং “দুরাইব” ইবনু নুকাইর ইবনু সুমাইর।

খ. কুনিয়াতসমূহ:

সাহাবীদের মধ্যে: “আবুল হামরা”; রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাওলা। তাঁর নাম হলো হিলাল ইবনুল হারিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু।
সাহাবী ব্যতীত অন্যদের মধ্যে: “আবুল ‘উবাইদাইন”; তাঁর নাম হলো মু’আবিয়া ইবনু সাবরাহ।

গ. লকবসমূহ:

সাহাবীদের মধ্যে: “সাফীনাহ”; রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাওলা। তাঁর নাম হলো মিহরান।
সাহাবী ব্যতীত অন্যদের মধ্যে: “মিন্দাল”; তাঁর নাম হলো ‘আমর ইবনু ‘আলী আল-গাযী আল-কূফী।

প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-আসমাউল মুফরাদাহ (الأَسْمَاءُ المُفْرَدَةُ)

হাফিয আহমাদ ইবনু হারূন আল-বারদীজী রহিমাহুল্লাহ
রাবীদের তারাজিম সংকলিত গ্রন্থসমূহের শেষের দিকে এর অনেকাংশ পাওয়া যায়; যেমন হাফিয ইবনু হাজারের তাকরীবুত তাহযীব (تَقْرِيْبُ التَّهْذِيْبِ)।

المَبْحَثُ الثَّانِيْ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ أَسْمَاءِ مَنِ اشْتَهَرُوْا بِكُنَاهُمْ

দ্বাদশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): যাঁরা কুনিয়াতে প্রসিদ্ধ তাঁদের নামের পরিচিতি

এই আলোচ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য

المُرَادُ بِهٰذَا البَحْثِ

এই আলোচ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য হলো: যাঁরা কুনিয়াতে প্রসিদ্ধ তাঁদের নাম অনুসন্ধান করা, যাতে আমরা তাঁদের প্রত্যেকের অপ্রসিদ্ধ নামটি জানতে পারি।


এর ফায়দা

مِنْ فَوَائِدِهِ

এই বিষয়ের ফায়দা হলো একই ব্যক্তিকে দুইজন মনে না করা। কারণ হতে পারে কখনো তাঁকে তাঁর অপ্রসিদ্ধ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কখনো তাঁর প্রসিদ্ধ কুনিয়াতে। যাঁর এ বিষয়ে জ্ঞান নেই তিনি হয়তো বিভ্রান্ত হয়ে পড়বেন এবং তাঁকে দুইজন ভেবে নেবেন; অথচ ইনি একই ব্যক্তি।


এই বিষয়ে সংকলনের পদ্ধতি

طَرِيْقَةُ التَّصْنِيْفِ فِيْهِ

কুনিয়াত বিষয়ে সংকলক তাঁর গ্রন্থকে কুনিয়াতের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজান, তারপর তাঁদের নাম উল্লেখ করেন। যেমন তিনি “হামযা” অধ্যায়ে “আবূ ইসহাক” উল্লেখ করেন এবং তাঁর নাম উল্লেখ করেন; “বা” অধ্যায়ে “আবূ বিশর” উল্লেখ করেন এবং তাঁর নাম উল্লেখ করেন; এভাবে চলতে থাকে।


কুনিয়াতধারীদের প্রকারভেদ ও উদাহরণ

أَقْسَامُ أَصْحَابِ الكُنٰى وَأَمْثِلَتُهَا
ক. যাঁর নামই কুনিয়াত, এছাড়া আর কোনো নাম নেই: যেমন আবূ বিলাল আল-আশ’আরী; তাঁর নাম ও কুনিয়াত একই।
খ. যাঁকে শুধু কুনিয়াতে চেনা যায়, তাঁর কোনো নাম আছে কিনা জানা যায় না: যেমন “আবূ আনাস” (একজন সাহাবী)।
গ. যাঁকে লকব হিসেবে কুনিয়াত দেওয়া হয়েছে, তাঁর আলাদা নাম ও ভিন্ন কুনিয়াত আছে: যেমন “আবূ তুরাব”; এটি ‘আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর লকব, আর তাঁর কুনিয়াত হলো আবুল হাসান।
ঘ. যাঁর দুই বা ততোধিক কুনিয়াত রয়েছে: যেমন ইবনু জুরাইজ; তাঁকে আবুল ওয়ালীদ এবং আবূ খালিদ উভয় কুনিয়াতে ডাকা হয়।
ঙ. যাঁর কুনিয়াত নিয়ে মতভেদ আছে: যেমন উসামাহ ইবনু যাইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; কেউ বলেছেন “আবূ মুহাম্মাদ”, কেউ “আবূ ‘আব্দিল্লাহ”, কেউ “আবূ খারিজাহ”।
চ. যাঁর কুনিয়াত জানা, কিন্তু নাম নিয়ে মতভেদ: যেমন আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; তাঁর নাম ও পিতার নাম নিয়ে ত্রিশটি মত আছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো “‘আব্দুর রহমান ইবনু সাখর”।
ছ. যাঁর নাম ও কুনিয়াত উভয় নিয়েই মতভেদ: যেমন “সাফীনাহ”; কেউ বলেছেন তাঁর নাম “‘উমাইর”, কেউ “সালিহ”, কেউ “মিহরান”। কুনিয়াতের ক্ষেত্রে কেউ বলেছেন “আবূ ‘আব্দির রহমান”, কেউ “আবুল বাখতারী”।
জ. যাঁর নাম ও কুনিয়াত উভয়েই প্রসিদ্ধ: যেমন চার ইমামের কুনিয়াত “আবূ ‘আব্দিল্লাহ” (সুফিয়ান সাওরী, ইমাম মালিক, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস আশ-শাফি’ঈ ও ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল রহিমাহুমুল্লাহ); এবং ইমাম আবূ হানীফা, যাঁর নাম আন-নু’মান ইবনু সাবিত রহিমাহুল্লাহ।
ঝ. যিনি নাম জানা সত্ত্বেও কুনিয়াতে প্রসিদ্ধ: যেমন আবূ ইদরীস আল-খাওলানী রহিমাহুল্লাহ; তাঁর নাম ‘আইযুল্লাহ।
ঞ. যিনি কুনিয়াত জানা সত্ত্বেও নামেই প্রসিদ্ধ: যেমন তলহাহ ইবনু ‘উবাইদিল্লাহ আত-তাইমী, ‘আব্দুর রহমান ইবনু ‘আওফ এবং আল-হাসান ইবনু ‘আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম; এঁদের সকলের কুনিয়াত “আবূ মুহাম্মাদ”।

প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

مِنْ أَشْهَرِ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আলিমগণ কুনিয়াত বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই বিষয়ে যাঁরা সংকলন করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘আলী ইবনুল মাদীনী, ইমাম মুসলিম এবং ইমাম নাসাঈ রহিমাহুমুল্লাহ। মুদ্রিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো:

আল-কুনা ওয়াল আসমা (الكُنٰى وَالأَسْمَاءُ)

আদ-দূলাবী; আবূ বিশর মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ রহিমাহুল্লাহ (ইন্তিকাল ৩১০ হিজরী)
المَبْحَثُ الثَّالِثَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الأَلْقَابِ

ত্রয়োদশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আল-আলকাব (উপাধিসমূহ) এর পরিচিতি

ভাষাগত সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ لُغَةً

الأَلْقَاب আল-আলকাব হলো لَقَب (লকব) এর বহুবচন। লকব হলো এমন বিশেষণ যা উচ্চতা বা নিচুতা নির্দেশ করে; অথবা প্রশংসা বা নিন্দা বোঝায়।


এই আলোচ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য

المُرَادُ بِهٰذَا البَحْثِ

এই আলোচ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য হলো মুহাদ্দিস ও হাদীস বর্ণনাকারীদের লকবসমূহ অনুসন্ধান করা; সেগুলো জানা ও দবত করা।


এর ফায়দা

فَائِدَتُهُ

লকব জানার ফায়দা দুটি:

ক. লকবকে নাম মনে না করা; এবং একই ব্যক্তি, যাঁকে কখনো নামে আবার কখনো লকবে উল্লেখ করা হয়, তাঁকে দুইজন না ভাবা।

খ. এই রাবীকে কেন এই লকব দেওয়া হয়েছে তার কারণ জানা। ফলে লকবের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানা যায়; যা অনেক সময় তার আপাত অর্থের সম্পূর্ণ বিপরীত হয়।


প্রকারভেদ

أَقْسَامُهُ
প্রথম প্রকার

যা দ্বারা পরিচয় দেওয়া জায়িয নয়

যে লকব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপছন্দ করেন।

দ্বিতীয় প্রকার

যা দ্বারা পরিচয় দেওয়া জায়িয

যে লকব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপছন্দ করেন না।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَتُهُ
আদ-দাল (الضَّال; পথভ্রষ্ট) ও আদ-দ’ঈফ (الضَّعِيف; দুর্বল)

“আদ-দাল” হলো মু’আবিয়া ইবনু ‘আব্দিল কারীমের লকব; তাঁকে এই লকব দেওয়া হয় কারণ তিনি একবার মক্কার পথে পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

“আদ-দ’ঈফ” হলো ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদের লকব; তাঁকে এই লকব দেওয়া হয় কারণ তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন; হাদীসে নয়। ‘আব্দুল গনী ইবনু সা’ঈদ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “দুইজন মর্যাদাবান ব্যক্তি দুটি কুৎসিত লকবে আবদ্ধ হয়ে রইলেন: আদ-দাল ও আদ-দ’ঈফ।”

গুনদার (غُنْدَر)

হিজাযবাসীর ভাষায় এর অর্থ “গণ্ডগোলকারী”। এটি মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফর আল-বাসরীর লকব; তিনি শু’বার ছাত্র ছিলেন।

এই লকবের কারণ: ইবনু জুরাইজ বাসরায় এসে আল-হাসান আল-বাসরী থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেন। বাসরাবাসী সেই হাদীস অস্বীকার করে গণ্ডগোল শুরু করে। মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফর তাঁর বিরুদ্ধে অত্যধিক গণ্ডগোল করেছিলেন। তখন ইবনু জুরাইজ তাঁকে বললেন: “চুপ করো, হে গুনদার!”

গুনজার (غُنْجَار)

এটি ‘ঈসা ইবনু মূসা আত-তাইমীর লকব; তাঁর গালের লালিমার কারণে তাঁকে “গুনজার” বলা হতো।

সা’ইকাহ (صَاعِقَة; বজ্রপাত)

এটি হাফিয মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীমের লকব; ইমাম বুখারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর হিফয (স্মৃতিশক্তি) ও অধ্যয়নের তীব্রতার কারণে তাঁকে এই লকব দেওয়া হয়।

মুশকদানাহ (مُشْكَدَانَة)

এটি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার আল-উমাবীর লকব। ফারসী ভাষায় এর অর্থ “কস্তুরীর দানা” অথবা “কস্তুরীর পাত্র”।

মুতাইয়ান (مُطَيَّن; কর্দমাক্ত)

এটি আবূ জা’ফর আল-হাদরামীর লকব। ছোটবেলায় তিনি অন্য বালকদের সাথে পানিতে খেলতেন এবং তারা তাঁর পিঠে কাদা মাখাত। আবূ নু’আইম তাঁকে বলতেন: “হে মুতাইয়ান! তুমি ইলমের মজলিসে কেন আসো না?”


প্রসিদ্ধ গ্রন্থ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

এই বিষয়ে অনেক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলিম গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও সংক্ষিপ্ত হলো:

নুযহাতুল আলবাব (نُزْهَةُ الأَلْبَابِ)

হাফিয ইবনু হাজার আল-‘আসকালানী রহিমাহুল্লাহ

المَبْحَثُ الرَّابِعَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ المَنْسُوْبِيْنَ إِلٰى غَيْرِ آبَائِهِمْ

চতুর্দশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): যাঁদের সম্বন্ধ পিতা ব্যতীত অন্যের সাথে, তাঁদের পরিচিতি

এই আলোচ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য

المُرَادُ بِهٰذَا البَحْثِ

যাঁদের সম্বন্ধ পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে প্রসিদ্ধ; নিকটবর্তী কেউ (যেমন মা ও দাদা) অথবা দূরবর্তী কেউ (যেমন প্রতিপালক), তাঁদের চেনা এবং তাঁদের পিতার নাম জানা।


ফায়দা

فَائِدَتُهُ

পিতার সাথে সম্বন্ধ করার সময় একই ব্যক্তিকে একাধিক ভাবার ভ্রম দূর করা।


প্রকারভেদ ও উদাহরণ

أَقْسَامُهُ وَأَمْثِلَتُهَا
পিতা ব্যতীত অন্যের সাথে সম্বন্ধিতদের চার প্রকার
যাঁর সম্বন্ধ মায়ের সাথে
মু’আয, মু’আওবিয, ও ‘আওয; এই তিনজন “ইবনু ‘আফরা” নামে পরিচিত। ‘আফরা তাঁদের মায়ের নাম, তাঁদের পিতার নাম আল-হারিস।
বিলাল ইবনু হামামাহ (রাবাহ ছিলেন তাঁর পিতা)।
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ; তাঁর পিতা ‘আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু।
যাঁর সম্বন্ধ দাদীর (নিকটবর্তী বা দূরবর্তী) সাথে
ইয়া’লা ইবনু মুনইয়াহ; মুনইয়াহ তাঁর পিতার মা, এবং তাঁর পিতার নাম উমাইয়া।
বুশাইর ইবনুল খাসাসিয়্যাহ; খাসাসিয়্যাহ তাঁর তৃতীয় ঊর্ধ্বতন পুরুষের মা, আর তাঁর পিতার নাম মা’বাদ।
যাঁর সম্বন্ধ দাদার সাথে
আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; তাঁর নাম ‘আমির ইবনু ‘আব্দিল্লাহ ইবনুল জাররাহ।
আহমাদ ইবনু হাম্বাল রহিমাহুল্লাহ; তিনি আসলে আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হাম্বাল।
যাঁর সম্বন্ধ কোনো কারণে অপরিচিত (গাইর) ব্যক্তির সাথে
আল-মিকদাদ ইবনু ‘আমর আল-কিন্দী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু; তাঁকে “আল-মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ” বলা হয়। কারণ তিনি আল-আসওয়াদ ইবনু ‘আব্দি ইয়াগূসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং আল-আসওয়াদ তাঁকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আমার জানামতে এই বিষয়ে বিশেষভাবে কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। তবে রাবীদের তারাজিম গ্রন্থসমূহ সাধারণভাবে প্রতিটি রাবীর বংশ পরিচয় উল্লেখ করে; বিশেষত বিস্তৃত তারাজিম গ্রন্থসমূহ।

المَبْحَثُ الخَامِسَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ النِّسَبِ الَّتِيْ عَلٰى خِلَافِ ظَاهِرِهَا

পঞ্চদশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আপাত অর্থের বিপরীত নিসবাহসমূহের পরিচিতি

ভূমিকা

تَمْهِيْدٌ

কিছু রাবী রয়েছেন যাঁদের সম্বন্ধ কোনো স্থান, যুদ্ধ, গোত্র বা পেশার দিকে করা হয়েছে। কিন্তু সেই সকল নিসবাহ থেকে যে আপাত অর্থ মনে আসে সেটি উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে তাঁদেরকে এসব নিসবাহ দেওয়া হয়েছে কোনো বিশেষ ঘটনার কারণে; যেমন সেই স্থানে অবস্থান করা, বা সেই পেশার লোকদের সাথে ওঠাবসা করা ইত্যাদি।


এই আলোচ্য বিষয়ের ফায়দা

فَائِدَةُ هٰذَا البَحْثِ

এই আলোচ্য বিষয়ের ফায়দা হলো এটি জানা যে, সেই নিসবাহগুলো প্রকৃত নয়; বরং কোনো ঘটনার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেই নিসবাহ দেওয়া হয়েছে। আর সেই ঘটনা বা কারণ জানা; যার জন্য তাঁকে সেই নিসবাহ দেওয়া হয়েছে।


উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَةٌ
আবূ মাস’ঊদ আল-বাদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু

তিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি; বরং বদরে অবস্থান করেছিলেন, এই কারণেই তাঁকে বদরের সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

ইয়াযীদ আল-ফকীর

তিনি ফকীর (দরিদ্র) ছিলেন না। বরং তাঁর পিঠের فَقَار ফাকারমেরুদণ্ডের হাড় -এ আঘাত পেয়েছিলেন। তাই “আল-ফকীর” নিসবাহ পেয়েছেন।

খালিদ আল-হায্‌যা (الحَذَّاء; জুতার কারিগর)

তিনি জুতা প্রস্তুতকারী ছিলেন না; বরং তিনি জুতার কারিগরদের সাথে ওঠাবসা করতেন। এই কারণেই তাঁকে এই নিসবাহ দেওয়া হয়েছে।


আনসাব বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْ الأَنْسَابِ

আল-আনসাব (الأَنْسَابُ)

আস-সাম’আনী রহিমাহুল্লাহ
এর সংক্ষিপ্ত রূপ রচনা করেছেন ইবনুল আসীর রহিমাহুল্লাহ “আল-লুবাব ফী তাহযীবিল আনসাব” (اللُّبَابُ فِيْ تَهْذِيْبِ الأَنْسَابِ) নামে। সেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটিকে আবার সংক্ষিপ্ত করেছেন ইমাম সুয়ূতী রহিমাহুল্লাহ “লুব্বুল লুবাব” (لُبُّ اللُّبَابِ) নামে।

المَبْحَثُ السَّادِسَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ تَوَارِيْخِ الرُّوَاةِ

ষোড়শ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): রাবীদের তারিখের পরিচিতি

সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُهُ

ক. ভাষাগত অর্থে: تَوَارِيْخ তাওয়ারীখ হলো تَارِيْخ (তারীখ) এর বহুবচন। তারীখ হলো أَرَّخَ (আররাখা) এর মাসদার; এতে হামযা সহজ করা হয়েছে।

খ. পারিভাষিক অর্থে: এমন সময় চিনিয়ে দেওয়া যার দ্বারা মীলাদ (জন্ম), মৃত্যু, ঘটনাবলি ইত্যাদির অবস্থা দবত করা যায়[৫০]


এখানে এর উদ্দেশ্য

المُرَادُ بِهِ هُنَا

এখানে এর উদ্দেশ্য হলো: রাবীদের জন্ম তারিখ, শায়খদের কাছ থেকে তাঁদের শ্রবণের সময়, বিভিন্ন শহরে তাঁদের আগমন এবং তাঁদের ইন্তিকালের তারিখ জানা।


গুরুত্ব ও ফায়দা

أَهَمِّيَّتُهُ وَفَائِدَتُهُ

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফন। সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুল্লাহ বলেন:

لَمَّا اسْتَعْمَلَ الرُّوَاةُ الكَذِبَ اسْتَعْمَلْنَا لَهُمُ التَّارِيْخَ

“যখন রাবীরা মিথ্যা ব্যবহার করতে শুরু করল, তখন আমরা তাঁদের জন্য তারিখ ব্যবহার করতে শুরু করলাম।”

এর অন্যতম ফায়দা হলো সনদের ইত্তিসাল (সংযোগ) বা ইনকিতা’ (বিচ্ছিন্নতা) জানা।

বাস্তব উদাহরণ

কিছু লোক দাবি করেছে যে তারা অমুক ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছে। তারিখের দিকে তাকানোর পর প্রকাশ পেল যে, তারা সেই ব্যক্তিদের ইন্তিকালের কয়েক বছর পরে তাঁদের থেকে বর্ণনার দাবি করেছিল।


তারিখের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণসমূহ

أَمْثِلَةٌ مِنْ عُيُوْنِ التَّارِيْخِ

ক. বিশুদ্ধ মতে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর দুই সাথী আবূ বকর ও ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা—তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ছিল ৬৩ বছর

খুলাফায়ে রাশিদীনের ইন্তিকালের তারিখ
রাসূলুল্লাহ ﷺ
১১ হিজরীর রবী’উল আউয়ালের ১২ তারিখে সোমবার দ্বিপ্রহরের আগে।
আবূ বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
১৩ হিজরীর জুমাদাল উলায় ইন্তিকাল।
‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
২৩ হিজরীর যুল হিজ্জায় ইন্তিকাল।
‘উসমান ইবনু ‘আফফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
৩৫ হিজরীর যুল হিজ্জায় শাহাদাত। বয়স ৮২ বছর; কেউ বলেছেন ৯০ বছর।
‘আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
৪০ হিজরীর রমাদান মাসে শাহাদাত। বয়স ছিল ৬৩ বছর।

খ. এমন দুজন সাহাবী, যাঁরা ৬০ বছর জাহিলী যুগে এবং ৬০ বছর ইসলামে কাটিয়েছেন; এবং উভয়েই ৫৪ হিজরীতে মদীনায় ইন্তিকাল করেছেন:

গ. অনুসৃত মাযহাবসমূহের ইমামগণ:

ইমামজন্ম (হিজরী)ইন্তিকাল (হিজরী)
আন-নু’মান ইবনু সাবিত (আবূ হানীফা)৮০১৫০
মালিক ইবনু আনাস৯৩১৭৯
মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস আশ-শাফি’ঈ১৫০২০৪
আহমাদ ইবনু হাম্বাল১৬৪২৪১

ঘ. নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ:

সংকলকজন্ম (হিজরী)ইন্তিকাল (হিজরী)
মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা’ঈল আল-বুখারী১৯৪২৫৬
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নায়সাবূরী২০৪২৬১
আবূ দাউদ আস-সিজিসতানী২০২২৭৫
আবূ ‘ঈসা আত-তিরমিযী[৫১]২০৯২৭৯
আহমাদ ইবনু শু’আইব আন-নাসাঈ২১৪৩০৩
ইবনু মাজাহ আল-কাযউইনী২০৭২৭৫

প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-ওয়াফাইয়াত (الوَفَيَاتُ)

ইবনু যাবর; মুহাম্মাদ ইবনু ‘উবাইদিল্লাহ আর-রাব’ঈ রহিমাহুল্লাহ (দিমাশকের মুহাদ্দিস; ইন্তিকাল ৩৭৯ হিজরী)
সালভিত্তিক বিন্যাসে সাজানো।

উপরের গ্রন্থের যাইলসমূহ

আল-কাত্তানী, এরপর আল-আকফানী, এরপর আল-‘ইরাকী রহিমাহুমুল্লাহ এবং অন্যান্য আলিম।

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৫০] দ্রষ্টব্য: ‘উলূমুল হাদীস (عُلُوْمُ الحَدِيْثِ), পৃষ্ঠা ৩৮০।

[৫১] ইমাম তিরমিযীর জন্ম সাল নিয়ে মতভেদ আছে। অধিকাংশ ইতিহাসবিদ নির্দিষ্ট সাল উল্লেখ করেননি; বরং বলেছেন তাঁর জন্ম তৃতীয় হিজরী শতাব্দীর প্রথম দশকে। তবে কিছু পরবর্তী ইতিহাসবিদ ২০৯ হিজরী উল্লেখ করেছেন; যেমন আশ-শামাইলের শারহকার মুহাম্মাদ ইবনু কাসিম জাসূস (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪)।

المَبْحَثُ السَّابِعَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ مَنِ اخْتَلَطَ مِنَ الثِّقَاتِ

সপ্তদশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): সিকাহ রাবীদের মধ্যে যাঁরা ইখতিলাতে পতিত হয়েছেন তাঁদের পরিচিতি

ইখতিলাতের সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُ الاِخْتِلَاطِ

ক. ভাষাগত অর্থে: الاِخْتِلَاط আল-ইখতিলাত ভাষাগত অর্থে হলো বুদ্ধির বিকৃতি। বলা হয়: اِخْتَلَطَ فُلَانٌ (অমুকের ইখতিলাত হয়েছে); অর্থাৎ তাঁর বুদ্ধি বিকৃত হয়ে গেছে; যেমনটি আল-কামূসে এসেছে।

খ. পারিভাষিক অর্থে: বুদ্ধির বিকৃতি, অথবা কথাবার্তার অসংলগ্নতা। এর কারণ হতে পারে: বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম (খারফ), অন্ধত্ব, কিতাব পুড়ে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণ[৫২]


মুখতালিতদের প্রকারভেদ

أَنْوَاعُ المُخْتَلِطِيْنَ
ইখতিলাতে পতিত রাবীদের তিন প্রকার
খারফ (বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম) এর কারণে
উদাহরণ: ‘আতা ইবনুস সাইব আস-সাকাফী আল-কূফী রহিমাহুল্লাহ।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণে
উদাহরণ: ‘আব্দুর রায্‌যাক ইবনু হাম্মাম আস-সান’আনী রহিমাহুল্লাহ। অন্ধ হওয়ার পর তাঁকে যা শোনানো (তালকীন করা) হতো, তিনি সেটাই গ্রহণ করতেন।
অন্যান্য কারণে (যেমন কিতাব পুড়ে যাওয়া)
উদাহরণ: ‘আব্দুল্লাহ ইবনু লাহী’আহ আল-মিসরী রহিমাহুল্লাহ।

মুখতালিত রাবীর বর্ণনার হুকুম

حُكْمُ رِوَايَةِ المُخْتَلِطِ
গ্রহণযোগ্য

ইখতিলাতের আগে যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তা গৃহীত।

গ্রহণযোগ্য নয়

ইখতিলাতের পরে যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তা গৃহীত নয়। একইভাবে যেসব বর্ণনার ক্ষেত্রে সন্দেহ আছে যে সেগুলো ইখতিলাতের আগের নাকি পরের, সেগুলোও গ্রহণযোগ্য নয়।


গুরুত্ব ও ফায়দা

أَهَمِّيَّتُهُ وَفَائِدَتُهُ

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফন। এর ফায়দা নিহিত রয়েছে সিকাহ রাবীর ইখতিলাতের পরে বর্ণিত হাদীসসমূহকে আলাদা করতে পারার মধ্যে; যাতে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা যায় এবং গ্রহণ করা না হয়।


সহীহাইনে কি ইখতিলাতে পতিত সিকাহ রাবীদের থেকে বর্ণনা আছে?

هَلْ أَخْرَجَ الشَّيْخَانِ فِيْ صَحِيْحِهِمَا عَنْ ثِقَاتٍ أَصَابَهُمُ الاِخْتِلَاطُ؟
উত্তর

হ্যাঁ, আছে। তবে শুধু সেইসব বর্ণনাই, যেগুলো ইখতিলাতের আগে তাঁরা বর্ণনা করেছেন বলে নিশ্চিত জানা যায়।


প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

এই বিষয়ে অনেক আলিম গ্রন্থ রচনা করেছেন; যেমন আল-‘আলাঈ ও আল-হাযিমী রহিমাহুমাল্লাহ। এসব গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:

আল-ইগতিবাত বিমান রুমিয়া বিল ইখতিলাত (الاِغْتِبَاطُ بِمَنْ رُمِيَ بِالاِخْتِلَاطِ)

হাফিয ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ সিবতু ইবনিল ‘আজামী রহিমাহুল্লাহ (ইন্তিকাল ৮৪১ হিজরী)

তথ্যসূত্র ও টীকা

[৫২] দ্রষ্টব্য: ‘উলূমুল হাদীস (عُلُوْمُ الحَدِيْثِ), পৃষ্ঠা ৩৯১; এবং আত-তাকরীব মা’আত তাদরীব (التَّقْرِيْبُ مَعَ التَّدْرِيْبِ): ২/৩৭২।

المَبْحَثُ الثَّامِنَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ طَبَقَاتِ العُلَمَاءِ وَالرُّوَاةِ

অষ্টাদশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): আলিম ও রাবীদের তবকার পরিচিতি

তবকার সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُ الطَّبَقَةِ

ক. ভাষাগত অর্থে: পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ একদল লোক।

খ. পারিভাষিক অর্থে: এমন একদল লোক যাঁরা বয়স ও ইসনাদে পরস্পর নিকটবর্তী, অথবা শুধু ইসনাদেই নিকটবর্তী[৫৩]

ইসনাদে নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ: একজনের শায়খগণ অপরজনেরও শায়খ হবেন, অথবা তাঁর শায়খদের কাছাকাছি হবেন।


এর ফায়দাসমূহ

مِنْ فَوَائِدِ مَعْرِفَتِهِ

ক. নাম বা কুনিয়াত ইত্যাদিতে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিদের একে অপরের সাথে মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া। কারণ দুটি নাম উচ্চারণে অভিন্ন হতে পারে, ফলে একজনকে অন্যজন মনে করা হতে পারে। এই বিভ্রান্তি তবকা জানার মাধ্যমে দূর করা যায়।

খ. العَنْعَنَة আল-‘আন’আনাহ (সনদে “‘আন” শব্দের ব্যবহার) থেকে প্রকৃত উদ্দেশ্য জানা।


একই দুই রাবী এক বিবেচনায় এক তবকায়, অন্য বিবেচনায় ভিন্ন তবকায় থাকতে পারেন

قَدْ يَكُوْنُ الرَّاوِيَانِ مِنْ طَبَقَةٍ بِاعْتِبَارٍ وَمِنْ طَبَقَتَيْنِ بِاعْتِبَارٍ آخَرَ

যেমন আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এবং ছোট সাহাবীদের মতো অন্যরা। তাঁরা ‘আশারা মুবাশশারার সাথে এক তবকায় গণ্য; কারণ তাঁরা সকলেই সাহাবী। এই বিবেচনায় সমস্ত সাহাবী এক তবকার অন্তর্গত।

কিন্তু ইসলাম গ্রহণের অগ্রগামিতার বিবেচনায় সাহাবীগণ দশ-বারোটি তবকায় বিভক্ত হন; যেমনটি “সাহাবীদের পরিচিতি” মাবহাসে আগে এসেছে। এই বিবেচনায় আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এবং তাঁর মতো অন্যরা ‘আশারা মুবাশশারার তবকায় থাকবেন না।


তবকা শাস্ত্রের গবেষকের কী জানা উচিত?

مَاذَا يَنْبَغِيْ عَلٰى النَّاظِرِ فِيْهِ؟

তবকা শাস্ত্রের গবেষকের জন্য রাবীদের জন্ম তারিখ, ইন্তিকালের তারিখ, কাঁদের থেকে তাঁরা বর্ণনা করেছেন এবং কারা তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন—এই সব জানা আবশ্যক।


প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আত-তবকাতুল কুবরা (الطَّبَقَاتُ الكُبْرٰى)

ইবনু সা’দ রহিমাহুল্লাহ

তবকাতুল কুররা (طَبَقَاتُ القُرَّاءِ)

আবূ ‘আমর আদ-দানী রহিমাহুল্লাহ

তবকাতুশ শাফি’ইয়্যাতুল কুবরা (طَبَقَاتُ الشَّافِعِيَّةِ الكُبْرٰى)

‘আব্দুল ওয়াহহাব আস-সুবকী রহিমাহুল্লাহ

তাযকিরাতুল হুফফায (تَذْكِرَةُ الحُفَّاظِ)

ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ

المَبْحَثُ التَّاسِعَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ المَوَالِيْ مِنَ الرُّوَاةِ وَالعُلَمَاءِ

ঊনবিংশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): রাবী ও আলিমদের মধ্যে মাওয়ালীদের পরিচিতি

মাওলার সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُ المَوْلٰى

ক. ভাষাগত অর্থে: المَوَالِيْ আল-মাওয়ালী হলো مَوْلٰى (মাওলা) এর বহুবচন। মাওলা শব্দটি الأَضْدَاد আল-আদদাদবিপরীতার্থক শব্দ এর অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রয়োগ হয়: মালিক, দাস, মুক্তকারী এবং মুক্তদাস উভয় অর্থেই[৫৪]

খ. পারিভাষিক অর্থে: এমন ব্যক্তি যিনি কারো সাথে চুক্তিবদ্ধ (মুহালিফ), অথবা মুক্তদাস, অথবা যিনি অন্য কারো হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন[৫৫]


মাওয়ালীর প্রকারভেদ

أَنْوَاعُ المَوَالِيْ

মাওয়ালীর প্রকার তিনটি:

মাওয়ালীর তিন প্রকার
মাওলাল হিলফ (চুক্তির মাওলা)
উদাহরণ: ইমাম মালিক ইবনু আনাস আল-আসবাহী আত-তাইমী রহিমাহুল্লাহ। তিনি বংশের দিক থেকে আসবাহী, আর তাইমী হিলফের ওয়ালা সূত্রে। কারণ তাঁর গোত্র “আসবাহ” চুক্তির মাধ্যমে কুরাইশের তাইম গোত্রের মাওলা হয়েছিল।
মাওলাল ‘আতাকাহ (মুক্তি প্রাপ্ত মাওলা)
উদাহরণ: তাবি’ঈ আবুল বাখতারী আত-তাঈ রহিমাহুল্লাহ; তাঁর নাম সা’ঈদ ইবনু ফাইরূয। তিনি তাঈ গোত্রের মাওলা; কারণ তাঁর মনিব ছিলেন তাঈ গোত্রের লোক, যিনি তাঁকে মুক্ত করেছিলেন।
মাওলাল ইসলাম (ইসলামের মাওলা)
উদাহরণ: মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা’ঈল আল-বুখারী আল-জু’ফী রহিমাহুল্লাহ। কারণ তাঁর দাদা আল-মুগীরা মাজূসী (অগ্নিপূজক) ছিলেন এবং আল-ইয়ামান ইবনু আখনাস আল-জু’ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাই তাঁকে জু’ফীর সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

এর ফায়দা

مِنْ فَوَائِدِهِ

বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া এবং কোনো ব্যক্তি কোন গোত্রের সাথে বংশের সম্বন্ধে যুক্ত আর কোন গোত্রের সাথে ওয়ালার সম্বন্ধে যুক্ত তা চেনা। এর মাধ্যমে যিনি গোত্রের সাথে ওয়ালা সূত্রে সম্বন্ধিত, তিনি সেই গোত্রের অন্য কোনো ব্যক্তি (যিনি বংশসূত্রে সম্বন্ধিত এবং নামে তাঁর সাথে মিল আছে) থেকে আলাদা হয়ে যান।


প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

এ বিষয়ে সংকলন করেছেন আবূ ‘আমর আল-কিন্দী রহিমাহুল্লাহ; তবে শুধু মিসরবাসীদের ক্ষেত্রে।


তথ্যসূত্র ও টীকা

[৫৩] দ্রষ্টব্য: তাদরীবুর রাবী (تَدْرِيْبُ الرَّاوِيْ), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৮১।

[৫৪] দ্রষ্টব্য: আল-কামূস (القَامُوْسُ), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪০৪।

[৫৫] দ্রষ্টব্য: আত-তাকরীব মা’আত তাদরীব (التَّقْرِيْبُ مَعَ التَّدْرِيْبِ): ২/৩৮২।

المَبْحَثُ العِشْرُوْنَ: مَعْرِفَةُ الثِّقَاتِ وَالضُّعَفَاءِ مِنَ الرُّوَاةِ

বিংশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): রাবীদের মধ্যে সিকাহ ও দ’ঈফদের পরিচিতি

সিকাহ ও দ’ঈফের সংজ্ঞা

تَعْرِيْفُ الثِّقَةِ وَالضَّعِيْفِ

ক. ভাষাগত অর্থে: الثِّقَة আস-সিকাহ মানে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। আর الضَّعِيْف আদ-দ’ঈফ হলো শক্তিশালীর বিপরীত। দুর্বলতা শারীরিক ও মানসিক উভয় হতে পারে।

খ. পারিভাষিক অর্থে: সিকাহ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ‘আদিল ও দাবিত। আর দ’ঈফ হলো একটি সাধারণ নাম যা এমন প্রত্যেককে অন্তর্ভুক্ত করে যাঁর দবত বা ‘আদালাহতে কোনো ত্রুটি রয়েছে।


গুরুত্ব ও ফায়দা

أَهَمِّيَّتُهُ وَفَائِدَتُهُ
সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ফন

এটি ‘উলূমুল হাদীসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ এর মাধ্যমেই সহীহ হাদীস দ’ঈফ থেকে আলাদা করা হয়।


প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ ও তাদের প্রকার

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ وَأَنْوَاعُهَا

ক. কেবল সিকাহদের বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ:

আস-সিকাত (الثِّقَاتُ)

ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ

আস-সিকাত (الثِّقَاتُ)

আল-‘ইজলী রহিমাহুল্লাহ

খ. কেবল দ’ঈফদের বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ (অনেক):

আদ-দু’আফা (الضُّعَفَاءُ)

ইমাম বুখারী, ইমাম নাসাঈ, আল-‘উকাইলী এবং ইমাম দারাকুতনী রহিমাহুমুল্লাহ (এই নামে একাধিক গ্রন্থ)

আল-কামিল ফিদ দু’আফা (الكَامِلُ فِيْ الضُّعَفَاءِ)

ইবনু ‘আদী রহিমাহুল্লাহ

আল-মুগনী ফিদ দু’আফা (المُغْنِيْ فِيْ الضُّعَفَاءِ)

ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ

গ. সিকাহ ও দ’ঈফ উভয়ের সম্মিলিত গ্রন্থসমূহ:

আত-তারীখুল কাবীর (التَّارِيْخُ الكَبِيْرُ)

ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ

আল-জারহু ওয়াত তা’দীল (الجَرْحُ وَالتَّعْدِيْلُ)

ইবনু আবী হাতিম রহিমাহুল্লাহ

আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল (الكَمَالُ فِيْ أَسْمَاءِ الرِّجَالِ)

‘আব্দুল গনী আল-মাকদিসী রহিমাহুল্লাহ; সাথে এর বিভিন্ন তাহযীব (আল-মিযযী, যাহাবী, ইবনু হাজার ও আল-খাযরাজী রহিমাহুমুল্লাহ কর্তৃক)।

المَبْحَثُ الحَادِيْ وَالعِشْرُوْنَ: مَعْرِفَةُ أَوْطَانِ الرُّوَاةِ وَبُلْدَانِهِمْ

একবিংশ মাবহাস (আলোচ্য বিষয়): রাবীদের আওয়তান ও বুলদানের পরিচিতি

এই আলোচ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য

المُرَادُ بِهٰذَا البَحْثِ

الأَوْطَان আল-আওয়তান হলো وَطَن (ওয়াতান) এর বহুবচন; যা হলো সেই অঞ্চল বা এলাকা যেখানে মানুষ জন্মগ্রহণ করে বা বসবাস করে। আর البُلْدَان আল-বুলদান হলো بَلَد (বালাদ) এর বহুবচন; যা হলো সেই শহর বা গ্রাম যেখানে মানুষ জন্মগ্রহণ করে বা বসবাস করে।

এই আলোচ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য হলো রাবীগণ যেসব অঞ্চল ও শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন বা বসবাস করেছেন সেগুলো জানা।


এর ফায়দা

مِنْ فَوَائِدِهِ

উচ্চারণে অভিন্ন দুটি নামের মধ্যে পার্থক্য করা; যদি তাঁরা ভিন্ন দুই শহরের হন। হাদীসের হাফিযগণের তাঁদের গবেষণা ও সংকলনে এ বিষয়ের প্রয়োজন হয়।


‘আরব ও ‘আজমরা কোন কিছুর সাথে নিজেদের সম্বন্ধ করে?

إِلٰى أَيِّ شَيْءٍ يَنْتَسِبُ كُلٌّ مِنَ العَرَبِ وَالعَجَمِ؟
‘আরবগণ

প্রাচীনে গোত্র, পরে শহর

প্রাচীনকালে ‘আরবগণ তাঁদের গোত্রের সাথে সম্বন্ধ করতেন; কারণ তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন বেদুইন যাযাবর। গোত্রের সাথে তাঁদের সম্পর্ক জমির চেয়ে দৃঢ়তর ছিল। ইসলাম আগমনের পর যখন তাঁদের মধ্যে শহর ও গ্রামে বসবাসের প্রবণতা দেখা দিল, তখন তাঁরা তাঁদের শহর ও গ্রামের সাথে সম্বন্ধ করতে শুরু করলেন।

‘আজমগণ

সবসময় শহর ও গ্রাম

অপরদিকে ‘আজমগণ প্রাচীনকাল থেকেই তাঁদের শহর ও গ্রামের সাথে নিজেদের সম্বন্ধ করেন।


যিনি নিজ শহর থেকে স্থানান্তরিত হয়েছেন তাঁর সম্বন্ধ কীভাবে?

كَيْفَ يَنْتَسِبُ مَنِ انْتَقَلَ عَنْ بَلَدِهِ؟

ক. যদি উভয়ের সাথে সম্বন্ধ একত্র করতে চান:

প্রথম শহর দিয়ে শুরু করবেন, তারপর দ্বিতীয় (যেখানে স্থানান্তরিত হয়েছেন)। দ্বিতীয়টির আগে “সুম্মা” (ثُمَّ; এরপর) যোগ করা উত্তম। যেমন কেউ হলবে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মদীনা মুনাওয়ারায় স্থানান্তরিত হয়েছেন; তিনি বলবেন: “ফুলান আল-হালাবী, সুম্মাল মাদানী”। অধিকাংশ লোক এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেন।

খ. যদি একত্র করতে না চান:

তিনি যেকোনো একটির সাথে সম্বন্ধ করতে পারেন। তবে এটি বিরল।

যিনি কোনো শহরের অধীনস্থ গ্রামের অধিবাসী, তাঁর সম্বন্ধ কীভাবে?

كَيْفَ يَنْتَسِبُ مَنْ كَانَ مِنْ قَرْيَةٍ تَابِعَةٍ لِبَلْدَةٍ؟

তাঁর জন্য তিনটি বিকল্প রয়েছে:

ক. সেই গ্রামের সাথে সম্বন্ধ করা।
খ. সেই গ্রাম যে শহরের অধীনস্থ, সেই শহরের সাথে সম্বন্ধ করা।
গ. সেই শহর যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, সেই অঞ্চলের সাথে সম্বন্ধ করা।
উদাহরণ

যদি কোনো ব্যক্তি “আল-বাব” (গ্রাম) এর হন; যা হলব শহরের অধীনস্থ; এবং হলব শাম অঞ্চলের অন্তর্গত; তাহলে তিনি নিজেকে “ফুলান আল-বাবী”, অথবা “ফুলান আল-হালাবী”, অথবা “ফুলান আশ-শামী” বলতে পারেন।


কত সময় কোনো শহরে অবস্থান করলে সেই শহরের সাথে সম্বন্ধিত করা যায়?

كَمِ المُدَّةُ الَّتِيْ إِنْ أَقَامَهَا الشَّخْصُ فِيْ بَلَدٍ نُسِبَ إِلَيْهَا؟
‘আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহর মত

চার বছর।


প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

أَشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ فِيْهِ

আল-আনসাব (الأَنْسَابُ)

আস-সাম’আনী রহিমাহুল্লাহ
এই কিতাবটি এই প্রকারের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা যায়; কারণ এতে আওতান ও অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্বন্ধ উল্লেখ করা হয়েছে।

আত-তবকাতুল কুবরা (الطَّبَقَاتُ الكُبْرٰى)

ইবনু সা’দ রহিমাহুল্লাহ
রাবীদের আওতান ও বুলদানের তথ্য পাওয়ার অন্যতম উৎস।

গ্রন্থকারের সমাপনী

এটিই হলো শেষ অংশ যা আল্লাহ এই কিতাবে আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন।

وَصَلَّى اللهُ عَلٰى سَيِّدِنَا وَنَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ، وَالحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ العَالَمِيْنَ

“আল্লাহ আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর, তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। আর সমস্ত প্রশংসা সকল জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।”


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ সমাপ্ত: সারসংক্ষেপ
الفَصْلُ الثَّانِيْ: مَعْرِفَةُ الرُّوَاةِ

এই পরিচ্ছেদে রাবীদের পরিচিতি সংক্রান্ত একুশটি মাবহাস আলোচিত হয়েছে: সাহাবী ও তাবি’ঈনদের পরিচিতি, ভাই-বোন, মুত্তাফিক ও মুফতারিক, মু’তালিফ ও মুখতালিফ, মুতাশাবিহ, মুহমাল, মুবহামাত, উহদান, একাধিক নামে উল্লিখিত রাবী, মুফরাদাত, কুনিয়াতে প্রসিদ্ধদের নাম, লকব, পিতা ব্যতীত অন্যের সাথে সম্বন্ধিত, আপাত অর্থের বিপরীত নিসবাহ, রাবীদের তারিখ, ইখতিলাতে পতিত সিকাহ, তবকা, মাওয়ালী, সিকাহ ও দ’ঈফ এবং রাবীদের আওতান-বুলদান।


চতুর্থ অধ্যায় সমাপ্ত: সারসংক্ষেপ
البَابُ الرَّابِعُ: الإِسْنَادُ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهِ
পরিচ্ছেদমূল বিষয়বস্তু
প্রথম পরিচ্ছেদ
লাতাইফুল ইসনাদ
ইসনাদের সূক্ষ্মতা সংক্রান্ত সাতটি মাবহাস: উঁচু-নিচু ইসনাদ, মুসালসাল, বড়দের ছোটদের থেকে বর্ণনা, পিতাদের পুত্রদের থেকে, পুত্রদের পিতাদের থেকে, মুদাব্বাজ ও আকরান, এবং সাবিক ও লাহিক।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
রাবীদের পরিচিতি
রাবীদের পরিচিতি সংক্রান্ত একুশটি মাবহাস; সাহাবী, তাবি’ঈ ও পরবর্তী রাবীদের নাম, কুনিয়াত, লকব, বংশ, তারিখ, তবকা, ইখতিলাত, সিকাহ-দ’ঈফ ও আওতান-বুলদানসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ দিক।

تَيْسِيْرُ مُصْطَلَحِ الحَدِيْثِ

পুরো গ্রন্থ সমাপ্ত: সামগ্রিক সারসংক্ষেপ

অধ্যায়মূল বিষয়বস্তু
প্রথম অধ্যায়
মূল পরিভাষা ও প্রকারভেদ
হাদীস, খবর, আসার, সনদ, মতন, রিওয়ায়াত ইত্যাদি মৌলিক পরিভাষা; খবরের প্রকার (মুতাওয়াতির, আহাদ); সহীহ, হাসান ও দ’ঈফের সংজ্ঞা ও প্রকার; মারফূ’, মাওকূফ, মাকতূ’, মুসনাদ, মুত্তাসিল, মুরসাল, মুনকাতি’, মু’দাল, মু’আল্লাক ইত্যাদি।
দ্বিতীয় অধ্যায়
রাবীর গ্রহণযোগ্যতা ও জারহ-তা’দীল
রাবী গ্রহণের শর্তসমূহ (‘আদালাহ ও দবত), জারহ ও তা’দীলের কিতাবসমূহ এবং উভয়ের ছয় ছয়টি স্তর ও সেসব স্তরের শব্দাবলি ও হুকুম।
তৃতীয় অধ্যায়
রিওয়ায়াত, তার আদব ও সংরক্ষণ
তাহাম্মুলের আট উপায় (সামা’, কিরাআহ, ইজাযাহ, মুনাওয়ালাহ, কিতাবাহ, ই’লাম, ওয়াসিয়্যাহ, ওয়িজাদাহ); হাদীস লিখন ও সংকলনের নয় প্রকার (জাওয়ামি’, মাসানীদ, সুনান, মা’আজিম, ‘ইলাল ইত্যাদি); কিতাব থেকে বর্ণনা ও অর্থানুসারে বর্ণনার নিয়ম; গরীবুল হাদীস; এবং মুহাদ্দিস ও ছাত্রের আদব।
চতুর্থ অধ্যায়
ইসনাদ ও রাবীদের পরিচিতি
ইসনাদের সূক্ষ্মতাসমূহ (সাত মাবহাস): উঁচু-নিচু ইসনাদ, মুসালসাল, আকাবির-আসাগির, পিতা-পুত্র, মুদাব্বাজ, সাবিক-লাহিক। এবং রাবীদের পরিচিতি (একুশ মাবহাস): সাহাবী, তাবি’ঈ, ভাই-বোন, মুত্তাফিক-মুফতারিক, মু’তালিফ-মুখতালিফ, মুতাশাবিহ, মুহমাল, মুবহামাত, উহদান, কুনিয়াত, লকব, ইখতিলাত, তবকা, মাওয়ালী, সিকাহ-দ’ঈফ এবং আওতান-বুলদান।
অনুবাদকের কথা

আল-হামদুলিল্লাহ, “তাইসীরু মুসতলাহিল হাদীস” (تَيْسِيْرُ مُصْطَلَحِ الحَدِيْثِ) গ্রন্থের পূর্ণ বাংলা অনুবাদ এখানে সম্পন্ন হলো। ড. মাহমূদ আত-তাহহান হাফিযাহুল্লাহ এই গ্রন্থে হাদীস শাস্ত্রের জটিল পরিভাষাগুলোকে অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপন করেছেন। আশা করি এই অনুবাদ বাংলাভাষী পাঠকদের হাদীস শাস্ত্র অধ্যয়নে সহায়ক হবে।

আল্লাহর কাছে দু’আ, তিনি যেন এই কাজকে কবুল করেন এবং গ্রন্থকার, অনুবাদক ও পাঠক—সকলের জন্য উপকারী করেন। আমীন।


Discover more from Debunking Misguidance

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *